আমি এ যুগের মেয়ে/তোমাদের পানে চেয়ে/অবহেলা আর নারীত্বের অবমাননার অপেক্ষায়/বসে থাকবার জন্য নয়/হাওয়া বদলের হাওয়ায় বদলে যাওয়া এই সময়ে...। কবিতার শিল্পিত উচ্চারণে এভাবেই দিন বদলের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করলেন নারী আবৃত্তিশিল্পীরা। গতকাল সোমবার বিকাল থেকে রাত অবধি চলল সেই আবৃত্তির উপস্থাপনা। বৃত্ত ভাঙার প্রত্যয় জাগানো আবৃত্তিতে সাজানো ছিল আয়োজন। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে ‘চিত্কার কর মেয়ে দেখি কতদূর গলা যায়’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। স্বাগত বক্তব্য দেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. আহ্্কাম উল্লাহ্। ঘোষণাপত্র পাঠ করেন আনিসা জামান চাপা। কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন রচিত ‘নারী উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর ভাবনা’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করেন শিরিন ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন পরিষদের সভাপতি ও সংস্কৃতিজন আসাদুজ্জামান নূর প্রমুখ। আয়োজনে সংহতি প্রকাশ করেন নাজনীন মুন্নি ও ইসরাত জাহান উর্মি। সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রেজীনা ওয়ালী লীনা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অনন্যা লাবণী পুতুল।
সেলিনা হোসেনের প্রবন্ধে বলা হয়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রশাসনিকভাবে নারীর ক্ষমতায়নে ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি সচেতনভাবে প্রশাসনে নারীর-পুরুষের সমতার জায়গা সৃষ্টি করেছিলেন।
আসাদুজ্জামান নূর বলেন, নারীদের যেমন অধিকার আদায় করে নিতে হবে, তেমনি পুরুষদেরও পুরুষ হয়ে না থেকে মানুষ হয়ে উঠতে হবে। মানুষ হওয়ার জন্য পুরুষের চেতনার প্রয়োজন। নারী-পুরুষের সমতা না হলে সমাজ উন্নত হবে না।
খুদে আবৃত্তিশিল্পীরা উপস্থাপন করে ‘স্বাধীনতার অমর কাব্য’ শীর্ষক প্রযোজনা। এটির গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় ছিলেন মীর মাসরুর জামান রনি। একক আবৃত্তি পর্বে সাফিয়া খন্দকার রেখা পাঠ করেন ‘পরীবানুর জবানবন্দি’ শিরোনামের স্বরচিত কবিতা। তামান্না তিথি পাঠ করেন মীর বরকতের লেখা কবিতা ‘এ কোন নিয়তি’। এছাড়া একক কণ্ঠে আবৃত্তি করেন লায়লা আফরোজ, নায়লা তারানুম চৌধুরী কাকলি, ঝর্ণা সরকার, শামীমা তন্দ্রা, তামান্না সারোয়ার নীপা, মাহমুদা আখতার, শ্যামলী সুলতানা, সালমা শবনম, রোকেয়া প্রাচী ও পদ্মাবতী দেবী প্রমুখ।
সমন্বয় পরিষদের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন আবৃত্তি সংগঠনের শিল্পীদের অংশগ্রহণে সজ্জিত ছিল সমবেত পরিবেশনা। রাম চন্দ্র দাস রচিত ‘এ যুগের মেয়ে’ শীর্ষক কবিতা আবৃত্তি করেন তারা। এই শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন রেজীনা ওয়ালী লীনা, কানিজ গোফরানী কোরায়শী, সুবর্ণা আরফিন, অনন্যা সাহা, মাহমুদা সিদ্দিকা সুমি, নাসিমা খান বকুল, শিখা সেন গুপ্তা, কাজী বুশরা আহমেদ তিথি, সাবিরা মাহবুব জনি, সুপ্রভা সেবতী, রূপালী বড়ুয়া ও রাবিয়া সুলতানা পান্না।
