বিনোদন রিপোর্ট
এদেশের রক আইকন আইয়ুব বাচ্চুর গান সংরক্ষণ, তার ব্যবহূত গিটার ও কাজের নথি নিয়ে থ্রিডি মিউজিয়াম তৈরির ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মূলত আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুর পর সবচেয়ে বড় দ্বিধা তৈরি হয় তার গড়া এলআরবি ব্যান্ডটির অস্তিত্ব ও পরিচালনা নিয়ে। সেটি নিয়ে নানা বাহাসও চলে গণমাধ্যমে।
পরবর্তীতে আইয়ুব বাচ্চুর সন্তান ও পরিবার বিষয়টির সমাধানে এগিয়ে আসেন। বলা যায়, কপিরাইট অফিসের ব্যবস্থাপনায় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে কোনো শিল্পীর ওয়েব সাইট তৈরির এই বিষয়টি এদেশে প্রথম ঘটনা।
এই অনন্য উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় আইয়ুব বাচ্চুর যাবতীয় গান, ক্যারিয়ার গ্রাফ, মেমরি এমনকি নানা স্মৃতিচিহ্ন একীভূত করার জন্য ডিজিটাল মিউজিয়াম তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেখানে তারিখ, সালসহ সকল তথ্য-উপাত্ত আইয়ুব বাচ্চু অনুরাগী বা তাকে নিয়ে কেউ গবেষণা করতে চাইলে তিনি পেয়ে যাবেন অনায়াসেই।
গত ৮ মার্চ সন্ধ্যার এই আলোচনায় কপিরাইট অফিসে আইয়ুব বাচ্চুর ক্যারিয়ারের খুব ঘনিষ্ঠ গীতিকবিদের বৈঠক বসে।
এই বৈঠকের লিখিত আমন্ত্রণ জানান কপিরাইট অফিসের রেজিস্ট্রার জাফর রাজা চৌধুরী। উদ্যোক্তা ছিলেন আইয়ুব বাচ্চুর পরিবারের পক্ষ থেকে চন্দনা ফেরদৌস আক্তার, আইয়ুব বাচ্চুর সহযাত্রী গিটারিস্ট আব্দুল্লাহ মাসুদ, গীতিকবি নিয়াজ আহমেদ অংশু ও ডিজিটাল কন্টেন্ট কনসালটেন্ট জুয়েল মোর্শেদ।
এই আলোচনায় ১৪ জন গীতিকবিকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও বৈঠকে স্বশরীরে উপস্থিত ছিলেন গীতিকার কবির বকুল, বাপ্পী খান, অ্যাঞ্জেল শফিক, তানভীর তারেক ও সাজ্জাদ হোসেন। এছাড়া ভার্চুয়ালি আয়োজনে অংশ নেন অস্ট্রেলিয়া থেকে নিয়াজ আহমেদ অংশু এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে শহীদ মাহমুদ জঙ্গী।
চন্দনা ফেরদৌস আক্তার তার বক্তব্যে বলেন, ‘এদেশের রক আইকন আইয়ুব বাচ্চুর প্রতি দেশবাসী যে শ্রদ্ধা ভালোবাসা জানিয়েছে তার কৃতজ্ঞতা আমি বলে শেষ করতে পারবো না। রাষ্ট্র যে সম্মান দেখিয়েছে তাতে আমি ও আমার সন্তানরা চিরকৃতজ্ঞ। এখন তার অমর সৃষ্টিগুলো রক্ষা ও লালনের দায়িত্বও সকলের। সে কারণেই এই আলোচনা।’
গিটারিস্ট মাসুদ বলেন, ‘আইয়ুব বাচ্চু স্যার আমাদের জন্য কী ছিলেন তা তাকে হারানোর পর আমরা বুঝতে পারছি। দেশবাসীও হাহাকারে ভুগছে। এর ভেতরে অনেক রকম কথা রটেছে। সেই ভ্রান্তিগুলোও আমরা কাটানোর চেষ্টা করছি। অনেকেই ভাবছেন আইয়ুব বাচ্চুর গানগুলোর রয়ালিটি কী পরিবার একাই নিয়ে যাবে কিনা! এছাড়াও নানা গুজব রটেছে। মূলত আইয়ুব বাচ্চুর গানের রয়ালিটি সংরক্ষণ ও সমবণ্টনের জন্য এই উদ্যোগ। আরো একটি বড় উদ্দেশ্য হলো একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তার সমস্ত সৃষ্টিকর্মের প্লাটফর্ম তৈরি করা। সেই কাজটিই আমরা করার উদ্যোগ নিয়েছি।’
উল্লেখ্য, আইয়ুব বাচ্চুর সকল গানের মূল গীতিকার, সুরকারের নাম নথিভুক্ত করা হয়েছে। সেটিরও সংশোধন চলছে বলে জানা গেছে। কপিরাইট রেজিস্ট্রার জাফর রাজা চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের রক আইকন আইয়ুব বাচ্চুর এ সকল সৃজনশীল কাজের সংরক্ষণের উদ্যোগ এদেশে প্রথম, কিন্তু এটিই শেষ নয়। বরং এটি একটি নতুন উদ্যোগের দ্বার খোলা হলো। আমরা একে একে বরেণ্যদের সৃষ্টিশীল কাজের সকল সংরক্ষণের ব্যাপারে উদ্যোগী হবো। আর রয়ালিটির ব্যাপারে যে বিভ্রান্তি সেগুলোও নিয়ম-নীতির ভেতরে সমাধান হবে। এখানে আইয়ুব বাচ্চু পরিবার ও তার সুহূদরা উদ্যোগী হয়েছেন বলেই আমরা কাজটি দারুণভাবে সম্পন্ন করতে পারছি। আমি মনে করি এটি বাংলা গানের জন্য অন্যতম একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকলো।’
অনুষ্ঠানে আগত গীতিকবিরা আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ও কাজের স্মৃতিচারণা করেন। ওয়েবসাইট ও আইয়ুব বাচ্চুকে নিয়ে ভার্চুয়াল জাদুঘর তৈরির প্রাথমিক কাজ শেষ হলেই এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানান সকলে।
