বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন

ভারতের সঙ্গে নির্বিঘ্ন যোগাযোগ চালু হলে দেশের আয় ১৭ শতাংশ বাড়বে

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২১, ২১:৫১

ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে নির্বিঘ্ন আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে উভয় দেশ লাভবান হবে। এর ফলে বাংলাদেশের জাতীয় আয় ১৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। অন্যদিকে ভারতের জাতীয় আয় বাড়তে পারে ৮ শতাংশ পর্যন্ত। 

বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত ‘কানেকটিং টু থ্রিভ: চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড অপরচুনিটিস অব ট্রান্সপোর্ট ইন্টিগ্রেশন ইন ইস্টার্ন সাউথ এশিয়া’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়।

এতে বলা হয়েছে, ভারতীয় কোনো প্রতিষ্ঠান ব্রাজিল অথবা জার্মানির সঙ্গে বাণিজ্য করতে যে খরচ হয় তার চেয়ে ১৫ থেকে ২০ ভাগ বেশি খরচ বেশি হয় বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য করতে। মূলত উচ্চহারে ট্যারিফ, প্যারা-ট্যারিফ এবং অশুল্ক বাধার কারণে এই বেশি খরচ হচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যে যে হারে ট্যারিফ দিতে হয় সেটি বৈশ্বিক গড়ের প্রায় দ্বিগুণ। দুই দেশ যদি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করে সেক্ষেত্রে ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রফতানি ১৮২ শতাংশ বাড়তে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশের বাজারে ভারতের রফতানি বাড়তে পারে ১২৬ শতাংশ পর্যন্ত।

মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের ঢাকা ও নয়া দিল্লি অফিসের যৌথ উদ্যোগে ভার্চুয়াল মাধ্যমে প্রতিবেদনটির আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। এতে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি মিয়ং টিমবন এবং ভারতের কান্ট্রি ডিরেক্টর জুনায়েদ আহমেদ বক্তব্য দেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। আরও বক্তব্য দেন সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ মাথিয়াস হেরেরা দাপে এবং লিড প্রাইভেট সেক্টর স্পেশালিষ্ট চার্লস কুনাকা। 

প্রতিবেদন বাংলাদেশ-ভুটান-ইন্ডিয়া-নেপাল (বিবিআইএন) মোটর ভেহিক্যাল এগ্রিমেন্ট এর বিভিন্ন দিকও তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক বাণিজ্যে পিছিয়ে রয়েছে দুই দেশ। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে অনেক কম। বাংলাদেশর ১০ ভাগ এবং ভারতের মাত্র এক ভাগ বাণিজ্য হচ্ছে আঞ্চলিক বাণিজ্য। পূর্ব এশিয়া ও সাব-সাহারান আফ্রিকার ৫০ ভাগ বাণিজ্য হচ্ছে আঞ্চলিক বাণিজ্যের মাধ্যমে। দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতি করার মাধ্যমে এই রফতানি আরও বাড়ানো সম্ভব। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে দুই দেশের নির্বিঘ্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশের রফতানি ২৯৭ শতাংশ এবং ভারতের রফতানি বাড়তে পারে ১৭২ শতাংশ।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টিমবন উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশ ভৌগলিকগত কারণে ভারত, নেপাল ভুটানসহ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর কৌশলগত প্রবেশদ্বারে পরিণত হতে পারে। আঞ্চলিক বাণিজ্যের হাবে পরিণত হতে পারে। ট্রানজিট এবং লজিস্টিক নেটওয়ার্ক উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক পাওয়ার হাউসও হতে পারে।
 
ইত্তেফাক/ইউবি