আমাদের দেশে যোগাযোগের অন্যতম সহজলভ্য মাধ্যম হলো জলপথ। উপকূলীয় অঞ্চল থেকে শুরু করে ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, মাদারীপুর ও চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াতের প্রধান বাহন হলো লঞ্চ। কিন্তু এই লঞ্চে যাতায়াত কতটুকু নিরাপদ? লঞ্চের মধ্যে হঠাত্ অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বাস্থ্যসেবা কি পাওয়া যায়? উত্তর হলো—না। কোনো লঞ্চেই স্বাস্থ্যসেবা পদ্ধতি চালু নেই। অথচ এই লঞ্চ দিয়ে প্রতিদিন জীবিকার তাগিদে অনিশ্চয়তা নিয়ে শত শত মানুষ দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চলাচল করে। যাতায়াতের সময় টানা ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লঞ্চে অবস্থান করতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে আরো বেশি সময় লাগে। আর এই সময়টাতে অসুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। কারণ এমন অনেক যাত্রী আছেন যাঁরা নদীর উত্তাল ঢেউ, লঞ্চের ঝাঁকুনি, লঞ্চের খাবার, অস্বাস্থ্যকর টয়লেট ইত্যাদি সহ্য করতে পারেন না। যার ফলস্বরূপ তাঁরা অল্পতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। শুধু তা-ই নয়, উন্নত চিকিত্সার জন্য ইমার্জেন্সি রুগীদের নিয়ে রাজধানীতে যাওয়ার সময় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়। আমি নিজেও বেশ কয়েকবার লঞ্চের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়েছি। তখন স্বাস্থ্যসেবা দূরের কথা, কারো কাছ থেকে সামান্য সহানুভূতি পর্যন্ত পাইনি। এমন পরিস্থিতিতে অনেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন; তখন অপ্রত্যাশিত বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটা বিচিত্র নয়। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সার্বিক দিক বিবেচনা করে লঞ্চে অস্থায়ী স্বাস্থ্য ক্যাম্প স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর আবেদন জানাচ্ছি।
হাসান মাহমুদ শুভ
চরফ্যাশন, ভোলা
