রংপুরে চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী ধর্ষণের মামলায় পুলিশের সাময়িক বরখাস্তকৃত এএসআই রাহেনুলসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে পিবিআই। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পৃথকভাবে রংপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এবং মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে এই চার্জশিট দাখিল করা হয়।
জানা গেছে, রংপুরের হারাগাছ থানাধীন বাহার কাছনা মাস্টারপাড়া এলাকায় দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার এএসআই রাহেনুল ইসলামসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন ভুক্তভোগীর পিতা। অন্য আসামিরা হলেন—সুমাইয়া পারভীন মেঘলা, সুরভী আক্তার সমাপ্তি, বাবুল হোসেন এবং আবুল কালাম আজাদ। তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বাবুল হোসেন ও আবুল কালাম আজাদ আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এছাড়াও ভুক্তভোগী ঐ শিক্ষার্থী আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেন। আসামিদের জবানবন্দি ও জব্দকৃত আলামতসহ ডিএনএ পরীক্ষায় গণধর্ষণের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়।
এএসআই রাহেনুল ইসলাম প্রেমের ফাঁদে ফেলে ভুক্তভোগীকে ২০২০ সালের ১৮ অক্টোবর বাহার কাছনার সুমাইয়া পারভীন মেঘলার ভাড়া বাসায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে ধর্ষণ করে ছাত্রীকে তার বাড়ির কাছে পৌঁছে দেয়। এ বিষয়ে তার মা রাগারাগি করলে ঐ স্কুলছাত্রী রাত ১০টার দিকে মেঘলার বাড়িতে আবারও আসে। পরে মেঘলা ও তার বান্ধবী সুরভী আক্তার সমাপ্তি মিলে বাবুল ও কালামের কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করায়।
তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম তদন্ত শেষে এএসআই রাহেনুল ইসলাম ওরফে রাজু, সুমাইয়া পারভীন মেঘলাও সুরভী আক্তার সমাপ্তির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন এবং মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে অপরাধ করার প্রাথমিক প্রমাণ পায়।
এছাড়াও অপর দুই আসামি আবুল কালাম আজাদ ও বাবুল হোসেনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপরাধ করেছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পায়। তাই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও মানবপাচার দমন ট্রাইব্যুনালে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
এ সময় উপস্থিত রংপুর পিবিআই পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন বলেন, আইন সবার জন্য সমান। আমরা এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত করে ধর্ষণের বিষয়ে প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছি। চার্জশিট দাখিল করা হলো। অপরাধ করলে কেউ পার পাবে না।
