বরিশালে এক যুবককে আটকের পর হাতকড়া পরিয়ে হাতে ইয়াবা দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে। ইয়াবা দিয়ে নির্যাতন করে ফাঁসানোর অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী যুবক মো. মারুফ সিকদার।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক আব্দুল মালেক তালুকদারের অফিসকক্ষে হাতকড়া পরিহিত এক যুবকের হাতে পাঁচ পিস ইয়াবা দিয়ে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। মাদকের কথা স্বীকার না করায় তাকে বেত্রাঘাত করা হয়। এ সময় নির্যাতিত যুবক পানি পান করতে চাইলে তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। বেতের লাঠি হাতে পরিদর্শক মালেক নির্যাতন করেন ঐ যুবককে। গত ২২ সেপ্টেম্বর রাতে নগরীর কাউনিয়া বিসিক রোড থেকে মারুফ সিকদারকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে পাঁচ পিস ইয়াবা উদ্ধার হয়েছে—অভিযোগ করে রাতেই নগরীর কাউনিয়া থানায় একটি মামলা করেন পরিদর্শক আব্দুল মালেক। ১৭ দিন হাজতবাসের পর কারাগার থেকে মুক্ত হলেও ফের হয়রানির আশঙ্কায় ঐ কর্মকর্তার বিচার চাইতে ভয় পাচ্ছেন তিনি। তবে তার কাছে ইয়াবা পাওয়ার কথা অস্বীকার করে মারুফ তাকে নির্যাতনের অভিযোগ করেন আব্দুল মালেক তালুকদারের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সোহেল জানান, মারুফের বিরুদ্ধে মাদকে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ কখনো শোনেননি তারা। মারুফকে অন্যায়ভাবে মাদক দিয়ে ফাঁসানো এবং নির্যাতনের ঘটনা তদন্ত করে অভিযুক্তের কঠোর বিচার দাবি করেন তিনিসহ স্থানীয়রা।
তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের উপস্থিতিতে ইয়াবাসহ মারুফ সিকদারকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেন আব্দুল মালেক তালুকদার। তাকে নির্যাতন কিংবা ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক পরিতোষ কুমার কুন্ডু বলেন, মাদক দিয়ে কাউকে ফাঁসানো এবং নির্যাতন করা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কাজ নয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কোনো টর্চার সেল নয়। যিনি নির্যাতন করেছেন দায় তার নিজের। এই দায় সংস্থা নেবে না। এ ঘটনা তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
