স্মারক

ভাস্কর্য ‘সংশপ্তক’

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২১, ২০:৫৭

মহান মুক্তিযুদ্ধকে বিষয় করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্মিত হয়েছে ভাস্কর্য। ভাস্কর্যগুলো নির্মাণের পেছনে রয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রামের একেকটি প্রেক্ষাপট। এমনই একটি ভাস্কর্য ‘সংশপ্তক’।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার ভবনের সামনে ভাস্কর্যটির অবস্থান। চার স্তরের লাল সিরামিক ইটের বেদির ওপর ব্রোঞ্জের তৈরি ভাস্কর্যের উচ্চতা ১৫ ফুট। ১৯৯০ সালের ২৬ মার্চ স্থাপিত। এর ভাস্কর স্থপতি হামিদুজ্জামান খান। ভাস্কর্যটিতে মূর্ত হয়েছে যুদ্ধে শত্রুর আঘাতে এক হাত ও এক পা হারিয়েও বন্দুক হাতে লড়ে যাওয়া এক বীরের প্রতিকৃতি। যিনি পঙ্গুত্ববরণ করেও নির্ভীক এবং যুদ্ধে জয়লাভে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

সংশপ্তক মানে যুদ্ধে নিশ্চিত পরাজয় জেনেও প্রাণপণ লড়ে যাওয়া সংগ্রামী বীর। ভাস্কর্যটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—জীবনকে তুচ্ছজ্ঞান করে মাতৃভূমিকে শত্রুমুক্ত করার লক্ষ্যে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়া সেইসব অকুতোভয় বীরের কথা, যাঁরা শত্রুর আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েও রণক্ষেত্র থেকে পিছু হটেনি।

লাল সিরামিক ইট আন্দোলন ও দৃঢ় মনোবল আর ব্রোঞ্জের জ্যোতি শাশ্বত চেতনার নির্দেশক। মুক্তিযুদ্ধে অকুতোভয় বাঙালির বীরত্বগাথার স্মারক এই ভাস্কর্য। যা নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগিয়ে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে।