পৃথিবীতে প্রায় তিন হাজার রকমের সাপ আছে। এদের মধ্যে বিষধর সাপের সংখ্যা মাত্র ৩৭৫টি। কোনো কোনো সাপ মাত্র কয়েক ইঞ্চি লম্বা, আবার কোনো কোনোটি এত বড় যে আস্ত একটি হরিণও গিলে খেতে পারে! সাপ নাগাড়ে অনেকদিন না খেয়েও বেঁচে থাকতে পারে। খাবার হজম করতে তাদের অনেক সময় লাগে বলে ক্ষুধাও কম পায়। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, রাজগোখরা বেশ কয়েকমাস না খেয়ে থাকতে পারে। সাপ কানে শুনতে পায় না। এর জিহ্বার ঠিক মাঝ বরাবর দুই ভাগে চেরা। সাপের কোনো নাক নেই, তাই গন্ধ নিতে পারে না। জিহ্বা দিয়েই সাপ গন্ধ বোঝে। সাপের চোয়ালের হাড় এমনভাবে জোড়া লাগানো যে, মুখের চেয়ে তিনগুণ বড় খাবারও সে অনায়াসে মুখে ঢুকিয়ে দিতে পারে। কিছু কিছু সাপের ২০০-রও বেশি দাঁত আছে। দাঁতগুলো ভেতরের দিকে বাঁকা হওয়ার কারণে শিকার কামড় দিয়ে ধরে রাখা ছাড়া আর কোনো কাজে লাগে না।
বিশ্বের দীর্ঘতম সাপের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে অ্যানাকোন্ডা। এটি জন্মের সময়ই তিন ফুট লম্বা হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লম্বা হতে থাকে এবং ৩৮ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। দক্ষিণ আমেরিকার নদ-নদী বা হ্রদের পাশে এদের বসবাস। মাত্র দু ইঞ্চি লম্বা সাপের নাম ‘ব্রাহ্মিণী সাপ’। অনেকেই একে কেঁচো বা জোঁক ভেবে ভুল করে থাকে। এই সাপ সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় এশিয়া মহাদেশে। কালো মাম্বা নামে এক ধরনের সাপ আফ্রিকায় বসবাস করে। নাম কালো হলেও এদের রং ধূসর। এ জাতীয় সাপ ঘণ্টায় ১২ মাইল পর্যন্ত দৌড়াতে পারে। ব্যোমস্ল্যাং নামে এক ধরনের সাপ গাছে থাকতেই বেশি পছন্দ করে। এর এক কামড়ে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মানুষ মারা যেতে পারে। উত্তর আমেরিকায় এক জাতের সাপ পাওয়া যায়, নাম সর্পরাজ। এ সাপ ছোটখাটো প্রাণীসহ অন্যান্য সাপও খেয়ে থাকে। অধিকাংশ বিষধর সাপ ছোবল দিয়েই শিকার ধরে। আবার এমন এক সাপ আছে যে থুতু ছুড়ে শিকার করে। সাপটির নাম থুতু নিক্ষেপকারী গোখরা। শিকার করার জন্য এ সাপ থুতুর মাধ্যমে বিষ ছুড়ে দেয়।
বেশিরভাগ সময় রং দেখেই সাপের অভ্যাস সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যায়। উজ্জ্বল রঙের সাপগুলো সাধারণত বিষধর হয়। অনুজ্জ্বল রঙের সাপ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হয় নির্বিষ। এরা এদের গায়ের রং ব্যবহার করে মাটি, গাছ বা পাতার সঙ্গে নিজেকে লুকিয়ে রাখার জন্য। এরকম একটি সাপ হলো সবুজ রঙের গেছো সাপ। গাছের পাতার রঙের সঙ্গে রং মিলিয়ে এ সাপ বসে থাকে লেজ ঝুলিয়ে। কোনো পাখি লেজটাকে গাছের ডাল ভেবে বসতেই সাপ তাকে খেয়ে ফেলে।
প্রদীপ সাহা
