উখিয়ায় থেমে নেই পাহাড় কাটা

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২১, ২১:৪২

উখিয়ার পাঁচটি ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশতাধিক স্থানে পাহাড় কাটা চলছে। সেই মাটি বিক্রিরও অভিযোগ উঠেছে। এদিকে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হলদিয়াপালং ইউনিয়নের খেওয়াছড়ি এলাকায় পাহাড় কাটার সময় মাটি চাপা পড়ে মো. আজিজ (২৮) নামের এক যুবক ঘটনাস্থলে মারা গেছেন। এ ঘটনায় তাত্ক্ষণিক অভিযান চালিয়ে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত একটি ডাম্পার জব্দ করেছে বলে বন রেঞ্জ কর্মকর্তা গাজী মো. শফিউল আলম জানিয়েছেন।  সরজমিন ঘুরে ও গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং, বাগানের পাহাড়, জামতলী, মধুরছড়া, ফলিয়াপাড়া, মাছকারিয়া, হরিণমারা, দোছরী, মাইল্ল্যারকুল, দরগাহ বিলসহ অর্ধশতাধিক স্পটে পাহাড় কেটে জলাশয়, বিভিন্ন স্থাপনার জায়গা ভরাট ও ইটভাটায় মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। 

পালংখালী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য নুরুল আবছার চৌধুরী জানান, বনভূমির জায়গা কমমূল্যে কিনে দখল করে মাটি কেটে শ্রেণি পরিবর্তন করছে। এসব জায়গায় পূর্বের দখলদার বসতিরা প্রতিবাদ করলে তাদেরকে মারধর করা হচ্ছে। এনিয়ে পক্ষেবিপক্ষে থানায় ও বনবিভাগে অভিযোগ করা হলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। এছাড়াও শফিউল্লাহ কাটা ডালা নামক স্থানে পাহাড় কেটে লক্ষ লক্ষ টাকার মাটি বিক্রি করছে প্রভাবশালী চক্র।  বালুখালী নবারুন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি নুরুল আমিন ছিদ্দিক অভিযোগ করে জানান, বালুখালী পান বাজারের দক্ষিণে একটি এনজিও সংস্থা বিশালাকার জলাশয় ভরাট করছে। তারা এলাকায় বনভূমির পাহাড় কেটে ডাম্পার গাড়িতে করে প্রকাশ্য দিবালোকে জলাশয় ভরাট করছে। এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরে অভিযোগ করা হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। 

উখিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিমুল এহসান খান বলেন, ‘খবর পেলে তাত্ক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি ও বালিভর্তি ডাম্পারসহ সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় এনে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে।’ কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শেখ মো. নাজমুল হুদা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, জেলার বিভিন্ন স্থানে যে সব পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে তা সরেজমিন তদন্তপূর্বক সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অচিরেই এলাকা ঘুরে তা বাস্তবায়ন করা হবে। উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা গাজী মো. শফিউল আলম বলেন, ‘এলাকায় বনভূমির পাহাড় কেটে মাটি পাচার, বালু উত্তোলনকারী ও বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত সমিল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলার বনবিভাগীয় কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে। বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করতে গেলে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশসহ জনবলের প্রয়োজন রয়েছে।’