৯-২-২০২০ তারিখে সরকারি প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য ১৩তম গ্রেড ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বলা হয়েছিল, ২০২০-এ যোগদান করা নতুন শিক্ষকদের ফিক্সেশন হবে ১৩তম গ্রেডে, সেটা আর হয়নি। ফিক্সেশন হয়েছে ১৫তম গ্রেডেই। তারপর নিয়োগবিধি পরিবর্তন করে প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষকদের যোগ্যতা স্নাতক/ডিগ্রি সমযোগ্যতা করা হলো। আমরা প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকরা ভাবলাম এবার বুঝি গ্রেড বৈষম্য নিরসন হবে। প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষকদের চাকরিতে প্রবেশের যোগ্যতা যেহেতু একই, তাহলে প্রধান শিক্ষকদের পরের গ্রেডেই সহকারী শিক্ষকদের গ্রেড হবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে প্রধান শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড দিয়ে সহকারীদের গ্রেড দেওয়া হলো ১৩তম। ১২তম গ্রেড প্রস্তাবিত সহকারী প্রধান শিক্ষকদের জন্য ফাঁকা রাখা হলো। অথচ সহকারী প্রধান শিক্ষক পদটির কাগজে-কলমে এখনো জন্মই হয়নি। যা হোক, সহকারীদের ওপরে চাপিয়ে দেওয়া সেই ১৩তম গ্রেড নিয়ে এক বছর ধরে চলছে দেন দরবার। স্নাতক/ডিগ্রি দ্বিতীয় শ্রেণির যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকরাই কেবল পাবে ১৩তম গ্রেড, এরকম প্রজ্ঞাপনে সারা দেশের প্রাথমিক শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম হলো। চলতে থাকল মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরে শিক্ষক-নেতাদের দৌড়ঝাপ। এ অবস্থায়, ১৯-১-২০২১ তারিখে কর্মরত শিক্ষকদের যোগ্যতা শিথিল করে সবার জন্য ১৩তম গ্রেড প্রদান করা হবে বলে পরিপত্র জারি করা হলো। এদিকে স্নাতক/ডিগ্রি দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষকদের জন্য গত ১১ মাসে আইবাস ++ সংশোধন করা হয়েছে। কিন্তু এখন যখন সব শিক্ষককেই ১৩তম গ্রেড প্রদানের অনুমতি দেওয়া হলো, তখন আবার নতুন করে সৃষ্টি হলো আইবাস ঝামেলা। শিক্ষকদের যোগ্যতা শিথিল করে ১৩তম গ্রেড দিতে হলে আবার এই আইবাস ++ সংশোধন করে এই অপশন যুক্ত করতে হবে। দীর্ঘ এক বছর ধরে আমরা প্রাথমিকের প্রায় চার লাখ শিক্ষক এই আইবাস ++ এ আটকে আছি। পরিশেষে, এই আইবাস ++ দ্রুত সংশোধন করে সমস্ত শিক্ষককে ১৩তম গ্রেড প্রদান করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মো. জামিল বাসার
সহকারী শিক্ষক, বওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধনবাড়ী, টাঙ্গাইল
