বর্তমান সরকার খুবই দুর্বল নড়বড়ে

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২১, ২৩:০২

গতকাল রাজধানীর খিলগাঁও তালতলা মার্কেটের সামনে এক বিরাট সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন তো আজ্ঞাবহ ক্রীতদাসের চেয়েও খারাপ। এই নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। নির্বাচন কমিশন নতুন করে যোগ্য ব্যক্তিদের দ্বারা গঠন করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার খুবই দুর্বল নড়বড়ে। অবিলম্বে সরকারের পদত্যাগ এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি করছি। তিনি খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে এবং তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার পরিবেশ তৈরি করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানান।

ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের সভাপতিত্বে এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বজলুল বাসিত আঞ্জুর সঞ্চালনায় সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, চেয়াপারসনের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, যুগ্মমহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, যুগ্মমহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, শ্যামা ওবায়েদ, শিরিন সুলতানা, আবদুস সালাম আজাদ, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস এবং পাঁচ সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী খুলনার নজরুল ইসলাম মঞ্জু, বরিশালের অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান সরোয়ার, চট্টগ্রামের ডা. শাহাদাত হোসেন, রাজশাহীর মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এবং ঢাকা দক্ষিণের ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, যুবদলের    সাইফুল আলম নিরব, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু প্রমুখ বক্তব্য দেন।

মোহাম্মদপুর শহিদ পার্কে এই সমাবেশের অনুমতি দিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু মঙ্গলবার গভীর রাতে সেই অনুমোদন বাতিল করে তালতলায় সমাবেশের অনুমতি দেয়। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারেক রহমানের নামে সাজানো মামলা ও সাজা প্রত্যাহার এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে সমাবেশটি হয়।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের ঢাকা সফরকালে সীমান্ত হত্যা নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তার প্রতিবাদ জানিয়ে ফখরুল বলেন, সীমান্ত হত্যা নিয়ে এই সরকারের এত দুর্বলতা কেন? কেন সে নিজের নাগরিকের কথা বলতে ভয় পায়। কেন কানেকটিভিটি ওরা চায়? আমরা চাই যে, কানেকটিভিটি হোক। বাণিজ্য বাড়ুক, প্রসার ঘটুক। কিন্তু আমি কিছুই পাব না। আমি পোর্ট দিয়ে দেব, আমার এয়ারপোর্ট ব্যবহার করতে দেব, আমার রাস্তা ব্যবহার করতে দেব কিন্ত বিনিময়ে আমি ফেনী নদী, তিস্তা নদীর পানিরও হিস্যা পাব না। এটা হতে পারে না।

মির্জা আব্বাস বলেন, গুম-খুনের জন্য আওয়ামী লীগের বিচার হবে। ভোটাধিকার হরণের জন্য নির্বাচন কমিশনের বিচার হবে। বিনা বিচারে কেউই ছাড় পাবে না। যুদ্ধ হবে, সংগ্রাম হবে, গণতন্ত্র ফিরে আসবে। সময় কারও জন্য বসে থাকে না। আমাদের অধিকার আমাদেরকেই আদায় করতে হবে।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, চোরের দশ দিন গৃহস্থের এক দিন। সব কিছুর সীমাবদ্ধতা আছে। ভোট চুরি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সারা বিশ্ব সোচ্চার হচ্ছে। সহযোগিতাকারীদের তালিকা হচ্ছে।

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আজকে মার্চ মাস। ১৪ দিন পরে দেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল। তার ঘোষণা দিয়েছেন শহিদ জিয়াউর রহমান। কেন মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল? গণতন্ত্র, ভোটাধিকারের জন্য মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু এখন বাংলাদেশে গভীর রাতে ভোট দেয় পুলিশ।

সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, এই সরকার পুলিশকে দুই ভাগে ভাগ করেছে। পুলিশের এক ভাগ বলছে মেজর (অব.) সিনহাকে ওসি প্রদীপ হত্যা করেছে, আরেক অংশ বলছে, না। পুলিশের এক ভাগ হাজি সেলিম পুত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র করেছে, আরেক অংশ বলছে,  না।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, কোনো অর্বাচীন কী বলল সেটা ধরার বিষয় নয়। জিয়াউর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন। রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছিলেন।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচন প্রসঙ্গে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, এ রকম বেহায়া নির্বাচন কমিশন দিয়ে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না।

নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, সরকার প্রথমে আমাদের ছয় মেয়র প্রার্থীর নির্বাচিত এই ব্যতিক্রমধর্মী কর্মসূচি বুঝতে পারেনি। যখন বুঝতে পেরেছে তখনই বাধা দেওয়া শুরু করেছে।

মজিবুর রহমান সরোয়ার বলেন, আজ গণতন্ত্র নেই।  গণতন্ত্র না থাকলে দেশ থাকবে না। দেশে উগ্রপন্থিদের উত্থান ঘটবে। এসব এই আওয়ামী লীগ সরকারের মাথায় নেই।

হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, অনেকেই বলেন, এই রাষ্ট্র এখন পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। তাই আমিও বলি, এই পুলিশ আর পুলিশ নাই। এই পুলিশ আর ওনাদের (আওয়ামী লীগের) পার্থক্য একটাই পুলিশ পোশাক পরে, আর ওনারা পরে না।

বিএনপির ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থী প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন বলেন, ‘আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি—এই আন্দোলন সংগ্রাম সফল করতে এই সরকারের পতন ঘটাতে প্রথম বুলেটটা নেওয়ার জন্য আমার বুক পেতে দেব। পেছন দিয়ে পালিয়ে যাব না।’