কোম্পানীগঞ্জে বিশৃঙ্খলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে :কাদের

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২১, ২৩:০৩

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বিশৃঙ্খলার সঙ্গে যারাই জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তাদের পরিচয় না দেখে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

গতকাল বুধবার বিকালে ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবনে নিয়মিত ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় এক জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশ ৯৮ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে। এর মধ্যে অভিযান চালিয়ে আটক ২৮ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে বসুরহাটে। পৌরসভা এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারার কারণে বাজারে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি একেবারেই কম।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মঙ্গলবারের সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত আলাউদ্দিন ও এর আগের ঘটনায় সাংবাদিক মোজাক্কিরের মৃত্যুতে                গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং তাদের পরিবার-পরিজনের প্রতি সমবেদনা জানান।

মঙ্গলবারের ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ইতিমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ পুলিশের আইজিপি, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও জেলা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা হয়েছে। ইতিমধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে, অভিযান চলছে। ‘শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন ও অর্জনকে কারো অপকর্মের জন্য ম্লান হতে দিতে পারি না’ জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, দুঃখজনক এ ঘটনার তদন্ত করে রিপোর্ট গঠনের জন্য নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রিপোর্ট এলে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট এলাকায় জনজীবনে অস্থিরতা বিরাজ করছিল। সরকার এখন কঠোরভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে, তাই আশা করা হচ্ছে শিগিগর জনজীবনে স্বস্তি ফিরে আসবে। ওবায়দুল কাদের কোম্পানীগঞ্জের জনগণকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ধৈর্য ধারণের এবং সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

‘বিএনপির মহাসচিব বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ক্ষিপ্ত হয়ে নাকি ৭ই মার্চের আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় মিথ্যাচার করেছেন’—সাংবাদিকেরা এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মিথ্যাচার করেননি, বরং জাতির সামনে ইতিহাসের প্রমাণিত সত্য তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, বিএনপি কখনো সত্য শুনতে চায় না, তাই ঐতিহাসিক সত্য প্রকাশে বিএনপির গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। ‘জিয়াউর রহমান ঘোষণা না দিলে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হতো না’ মর্মে বিএনপির মহাসচিবের এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, তার এই বক্তব্যও স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতির শামিল। এ ধরনের মিথ্যাচার বিএনপির রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ।

বিএনপি জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রাণান্ত অপপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা আর ঘোষণা পাঠ করা এক কথা নয়। পাঠক কখনো ঘোষক হতে পারে না। ওবায়দুল কাদের বলেন, জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে ঘোষণা পাঠকারীদের মধ্যে একজন। জিয়াউর রহমানকে দেশে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির জনক বলেও মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।