নন্দীগ্রামে পড়ে গিয়ে চোট পেলেন মমতা, ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২১, ০০:২৮

নিজের কেন্দ্র মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে বুধবার সন্ধ্যায় নির্বাচনি প্রচারণার সময় পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। একটি মন্দির থেকে বের হওয়ার সময় তাকে চার-পাঁচ জন লোক ধাক্কা মেরে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ মমতার। এর পেছনে চক্রান্ত রয়েছে বলে মনে করছেন তিনি। পড়ে গিয়ে তিনি মাথায়, কপালে ও বাঁ পায়ে আঘাত পেয়েছেন। রাতেই তাকে কলকাতায় নিয়ে আসার কথা। ভর্তি করা হতে পারে এসএসকেএম হাসপাতালে। বাড়িতেও তার চিকিত্সা হতে পারে।

এদিন দুপুরেই মনোনয়নপত্র পেশ করেন মমতা ব্যানার্জি। মঙ্গলবার থেকেই নন্দীগ্রামে রয়েছেন মমতা। দুই দিনব্যাপী প্রচারণার পাশাপাশি বেশ কিছু মন্দির এবং মাজারে যান তিনি। এদিন সন্ধ্যায় নন্দীগ্রামের রানীচকের একটি মন্দিরে হরিনামসংকীর্তন শুনতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে বের হয়ে নন্দীগ্রামের ভাড়া বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল তার। মমতার অভিযোগ, গাড়িতে ওঠার আগে অভ্যাসমতো দাঁড়িয়ে জনতার উদ্দেশ্যে কথা বলছিলেন তিনি। সেই সময় ভিড়ের মধ্যে থেকে চার-পাঁচ জন তাকে ধাক্কা মারে। মমতা বলেন, ‘ভিড়ের মধ্যে চার-পাঁচ জন বাইরে থেকে ঢুকে পড়েছিল। তারা ধাক্কা মেরে ফেলে দেয় আমাকে। ইচ্ছাকৃতভাবেই ধাক্কা মারা হয়। এর পেছনে ষড়যন্ত্র ছিল।’ ঘটনার সময় জেলার পুলিশ সুপার, স্থানীয় পুলিশ, নিরাপত্তা রক্ষীরা কাছে ছিলেন না। মমতা বলেন, ‘প্রচণ্ড যন্ত্রণা হচ্ছে। জ্বর চলে এসেছে।’ ঘটনার পর নিরাপত্তা রক্ষীরা তাকে গাড়িতে তোলেন।

এ ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, ‘নাটক করা হচ্ছে।’ বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘উনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন। তবে ওনার তো নিরাপত্তা রক্ষী থাকার কথা। তারা কোথায় ছিলেন। কেন তার নিরাপত্তা রক্ষীরা কাছে ছিলেন না, তা জানতে তদন্ত হওয়া উচিত।’ বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় বলেছেন, ঘটনার সিবিআই তদন্ত হওয়া উচিত।

নন্দীগ্রামে সিপিএম প্রার্থী হয়েছেন ছাত্রনেতা মিনাক্ষী ব্যানার্জি। তিনি বলেন, ‘কী ঘটেছে তা উনিই ভালো বলতে পারবেন। এটা থেকে রাজ্যের পরিস্থিতি কী তা বোঝা যাচ্ছে।’ উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা পান মমতা ব্যানার্জি।