বিশ্বব্যাপী প্রতি তিন জনে এক জন নারী যৌন হয়রানি অথবা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন বলে দাবি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সম্প্রতি সংস্থাটির প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপেক্ষাকৃত দরিদ্র দেশগুলোতে স্বামী অথবা ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মাধ্যমেই নারীরা বেশি সহিংসতার শিকার হন। আর প্রতি চার জনে একজন নারী ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মাধ্যমেই সহিংসতার শিকার হন। অনেক সময় ১৫ বছর বয়স থেকে যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটে।
রয়টার্স ও আল জাজিরার খবরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, কিরিবাতি, ফিজি, পাপুয়া নিউগিনি, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব দ্য কঙ্গো—এই ছয়টি দেশে সহিংসতার শিকার হওয়ার ঘটনা বেশি। প্রতিবেদনে ইউরোপে নারীদের সহিংসতার শিকার হওয়ার হার সবচেয়ে কম উল্লেখ করা হয়। তবে সেখানেও ২৩ শতাংশ নারী সহিংসতার শিকার হন বলে জানানো হয়।
প্রতিবেদনে ডব্লিউএইচও বিভিন্ন দেশের সরকারের কাছে সহিংসতা রোধে ব্যবস্থা নিতে আরমযান জানিয়েছে। একই সঙ্গে নারীর মানবাধিকার উন্নয়নে সহিংসতার শিকার নারীদের অবস্থার উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ন্ত্রণের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। ২০০০ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত চালানো বিভিন্ন জরিপের ভিত্তিতে এ গবেষণা করে বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, প্রত্যেক দেশ ও সংস্কৃতিতে নারীদের প্রতি সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের জেন্ডার ভায়োলেন্স অ্যান্ড হেলথ সেন্টারের পরিচালক হেইডি স্টোয়েকেল বলেন, গত কয়েক দশকে নারীদের প্রতি সহিংসতার ঘটনায় তেমন কোনো পরিবর্তন আসেনি।
