সাতক্ষীরা জেলার একটি উপজেলা। সুন্দরবন আর সমুদ্রসৈকত এখানকার প্রধান আকর্ষণ। একদা শ্যামনগর জুড়েও ছিল সুন্দরবন, যা কি না ক্রমে ক্রমে ধ্বংস করে গড়ে তোলা হয়েছে জনপদ। প্রাচীন নিদর্শন ও দর্শনীয় স্থান—ঈশ্বরীপুর যশোরেশ্বরী মন্দির, বংশীপুর শাহী মসজিদ, শ্যামনগর জমিদার বাড়ি, নূরনগর নুরুলা খাঁ মাজার, ঈশ্বরীপুর হাম্মামখানা, ভুরুলিয়া সার্বজনীন কালি মন্দির, মান্দারবাড়িয়া সমুদ্রসৈকত, ঈশ্বরীপুর চণ্ড ভৈরবের মন্দির, যিশুর গির্জা, গোপালপুর গোবিন্দ দেবের মন্দির, খানপুর-ভুরুলিয়া জাহাজঘাটা নৌদুর্গ, ধুমঘাট রাজা প্রতাপাদিত্যের রাজধানী ও রাজবাড়ি, গোপালপুর ঐতিহাসিক স্মৃতিসৌধ, গোপালপুর দিঘি ও পার্ক, সুন্দরবন।
শ্যামনগর উপজেলার নামকরণ সম্পর্কে জানা যায়, শ্যামনগরের আদি অধিবাসীরা ছিল মহাভারতীয় যুগের মানুষদের বংশধর। শ্রীকৃষ্ণ ছিলেন তাদের আরাধ্য দেবতা। শ্রীকৃষ্ণের শতাধিক নামের মধ্যে শ্যাম, গোপাল, গোবিন্দ, গোকুল, গোপী প্রভৃতি নাম বেশি পরিচিত ও প্রচলিত। সেকালেও ছেলেমেয়ে ও গ্রামগঞ্জের নামকরণ করা হতো দেব-দেবী ও অবতারদের নামে। সম্ভবত এখানকার আদি অধিবাসীরা তাঁদের প্রিয় দেবতা শ্রীকৃষ্ণের ‘শ্যাম’ নামানুসারে ‘শ্যামনগর’ রেখেছিলেন। অন্যমতে, ইংরেজ আমলে প্রথমে এখানে একটি ফাঁড়ি ছিল। পরবর্তী সময়ে ফাঁড়িটিকে থানায় উন্নীত করার সময় শ্যামসুন্দর নামে এক ভদ্রলোক প্রয়োজনীয় গৃহ নির্মাণের জন্য একখণ্ড জমি ইংরেজ সরকারকে দান করেন। আর এই কারণে স্থানটির নামকরণ দাতার নামানুসারে শ্যামনগর হয়েছিল।
লিয়াকত হোসেন খোকন
