রোহান ও রোহিত, যমজ দুই শিশুর বয়স মাত্র ১৩ মাস। কয়েক মিনিট পর পর তাদের হচ্ছে বমি ও পাতলা পায়খানা। বিছানা না পেয়ে হাসপাতালের করিডোরেই দুই সন্তানকে নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ব্যস্ত রয়েছেন বাবা হাবিবুর রহমান ও মা রুমী আক্তার। হাসপাতালের করিডোরের চেয়ারে কোনো রকমে বসার জায়গাটুকু পেয়ে কেউ পায়খানা ও বমি পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ স্যালাইন পানি খাওয়াতেই ব্যস্ত।
দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডের বাইরে এভাবেই যমজ দুই সন্তানের ডায়রিয়ার চিকিত্সা চালাচ্ছেন হাবিবুর রহমান ও তার স্বজনরা। হাবিবুর রহমান বলেন, ‘তিন দিন ধরে তাদের ডায়রিয়া শুরু হয়েছে। স্থানীয়ভাবে চিকিত্সা নিয়ে কোনো উন্নতি না হওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। কিন্তু এখানে ডায়রিয়া রোগীর ভর্তির জন্য সিট নেই। বাধ্য হয়েই হাসপাতালের করিডোরে অবস্থান নিয়ে চিকিত্সা চালাচ্ছি দুই সন্তানের।’ দিনাজপুরে হঠাত্ করেই ব্যাপকভাবে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় হাসপাতালে জায়গা নেই। দেখা গেছে, ২৫০ শয্যার দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বিছানা মাত্র আটটি। আর প্রতিদিন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছেন ৩০ থেকে ৪০ জন। তাই ৮ জন বাদে বাকী রোগীদের চিকিত্সা নিতে হচ্ছে মেঝেতে, করিডোরে বা হাসপাতালের অন্য কোথাও।
হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে কর্তব্যরত সিনিয়র স্টাফ নার্স আরভিনা পারভীন জানান, হাসপাতালে মাত্র আটটি বেড থাকলেও মঙ্গলবার রোগী আসে ৪০ জন। তাই বাকী ৩২ জনকে রাখা হয়েছে মেঝে বা করিডোরে। বেডের চেয়ে অনেক বেশি রোগী ভর্তি হওয়ায় মেঝে বা করিডোরে রেখেই চিকিত্সা দিতে হচ্ছে অধিকাংশ রোগীদের। তবে স্যালাইনসহ অন্যান্য ওষুধপত্রের কোনো স্বল্পতা নেই বলে জানান তিনি। গত এক সপ্তাহে এই হাসপাতালে ২৮৮ জন ডায়রিয়া রোগী ভর্তি হয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়। দিনাজপুর জেনারেল চিকিত্সক ডা. নিশাত শারমীন জানান, গত কয়েকদিন ধরে দিনাজপুরে ব্যাপকভাবে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই বেশি। ডায়রিয়া ওয়ার্ডের বেডের সংখ্যা কম হলেও সঠিকভাবে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। দিনাজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী গত এক সপ্তাহে জেলায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৬৩৯ জন রোগী বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল কুদ্দুছ জানান, সাধারণ পানি স্বল্পতা ও পুকুরের অস্বাস্থ্যকর পানি ব্যবহারের কারণেই এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। দিনাজপুরেও ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণ এটি। এ জন্য প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন করার জন্য।
