নীতিমালার তোয়াক্কা না করেই রূপগঞ্জের ফসলি জমির মাটি যাচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায়। ফসলি জমির মাটি দিয়ে তৈরি করা ইটের চাহিদা বেশি থাকায় ভাটার মালিকরা বিভিন্ন কৌশলে তা নিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালীদের যোগসাজশে উপজেলার বিরাবো, তারাইল, পাইস্কা, চারিতালুক, পূবেরগাঁও, ডহরগাঁও, হোরগাঁও, গোলাকান্দাইল, সাওঘাট, মাসাবো, কর্ণগোপসহ আশপাশের এলাকার ফসলি জমির উপরি ভাগের (টপ সয়েল) মাটি অবাধে যাচ্ছে ইটভাটায়। বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পেও যাচ্ছে ঐ মাটি। তাতে জমি উর্বরতা হারাচ্ছে। ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন কৃষকরা। জমির টপ সয়েল কেটে ফেললে দুই-তিন বছর জমিতে তেমন ফসল উত্পাদন হয় না বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচ উপজেলার ৪২৪ বর্গমাইল আয়তনের মধ্যে ৩২৮টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে রূপগঞ্জেই ১১৪টি। ইট তৈরির প্রধান কাঁচামাল মাটি। ফসলি জমির মাটি ইট তৈরিতেও সুবিধা। চাহিদা বেশি। দামও অনেক।
রূপগঞ্জ উপজেলার উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, জমির উপরি ভাগের মাটিতে যে পরিমাণ জিপসাম বা দস্তা থাকে ইটভাটার কারণে তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া মাটিতে যে জীবাণু থাকে এবং অণুজীবের কার্যাবলি আছে তা দিন দিন সীমিত হয়ে যাচ্ছে। এতে করে ফসলি জমির উত্পাদন ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। মাটির জৈব শক্তি কমে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষক। উপজেলার তারাইল গ্রামের কৃষক আব্দুল আজিজ ও সোহেল মিয়া বলেন, ইটভাটার নিয়োজিত লোকজন জমির মাটি কখনো কিনে কখনো বা জোর করে কেটে নিয়ে ইটভাটায় সরবরাহ করছে। কোনো কোনো জমিতে এক্সকাভেটর দিয়ে ১৪/১৫ ফুট গভীর করে মাটি কাটা হয়। তখন আশপাশের ফসলি জমি ভেঙে পড়ে। ক্ষতির সম্মুখীন হন কৃষক।
কাঞ্চন পৌরসভার বিরাবো এলাকার মেসার্স বিবিএফ ইটভাটার মালিক নজরুল ইসলাম বলেন, বেলে মাটিতে ভালো মানের ইট তৈরি করা যায় না। বেলে মাটির সঙ্গে আংশিক ফসলি জমির ওপরের অংশ মিশ্রিত করলে ইটের মান ভালো হয়। তাই ইটভাটায় ফসলি জমির টপ সয়েলের গুরুত্ব অনেক বেশি। দাউদপুর ইউনিয়নের খৈইসার এলাকার ইটভাটার মালিক ফাহিম ইসলাম বলেন, ‘প্রতি বছরই সরবরাহকারীরা আমাদের ভাটায় মাটি দেয়। কোথা থেকে মাটি এনে দেয় কিংবা কীভাবে মাটি আনা হয়, আমরা সেটা জানি না। আমরা দেই টাকা। তারা দেয় মাটি। এর বাইরে কিছু বলতে পারব না।’
রূপগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার ফাতেহা নূর বলেন, এভাবে ফসলি জমির মাটি ইটভাটায় যেতে থাকলে ধীরে ধীরে ফসল উত্পাদন ব্যাহত হবে। কমপক্ষে দুই-তিন বছর ঐ জমি থেকে ভালো ফলন আশা করা যায় না। তাতে আগামীতে খাদ্য ঘাটতির সম্ভাবনা রয়েছে।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ্ নুসরাত জাহান বলেন, অবৈধ ইটভাটায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, অভিযান চালিয়ে অনুমোদনবিহীন অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অভিযান অব্যাহত আছে। পর্যায়ক্রমে অবৈধ ইটভাটাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।
