করোনা ভাইরাসের কারণে ক্ষতির মুখে পড়া নারী উদ্যোক্তারা ৪ শতাংশ সুদে জামানতবিহীন ব্যাংকঋণ চান। সরকারের প্রণোদনার বাইরে এসএমই খাতের আওতায় এই ঋণে ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ডও (মোরাটরিয়াম বা যে সময় পর্যন্ত ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হয় না) চেয়েছেন তারা। ইতিমধ্যে এ প্রস্তাব তারা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (বিডব্লিওসিসিআই)। এছাড়া সরকার কর্তৃক ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থ আগামী অর্থবছরেও চলমান রাখা এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এ প্যাকেজের আওতায় ৫ শতাংশের স্থলে ১৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখার দাবি জানানো হয়। আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটের জন্য ইতিমধ্যে ১০টি প্রস্তাব ও দাবি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছেও উপস্থাপন করেছেন সংগঠনটির সভাপতি সেলিমা আহমাদ। নতুন নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা শুরুর প্রথম তিন বছর আয়কর ও ভ্যাট মওকুফ করা, আগামী অর্থবছরে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য এসএমই খাতে ২০০ কোটি বরাদ্দ রাখার দাবিও জানানো হয়। এছাড়া সেবা খাতের উদ্যোক্তা বিশেষত বুটিক, বিউটি পার্লার, ক্যাটারিং, রেস্টুরেন্ট, খাবারের দোকান ও অন্যান্য খাদ্যের ব্যবসায়ে ভ্যাট হার বিদ্যমান ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ করা, নারীদের করমুক্ত আয়সীমা বিদ্যমান সাড়ে ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। করোনা পরিস্থিতির প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত নারী উদ্যোক্তারা পুনরায় ব্যবসা শুরু করার পর আগামী দুই বছর আয়কর ও ভ্যাট মওকুফ করা, ট্রেড লাইসেন্স ফি অর্ধেক কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। এছাড়া নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আমদানিকৃত যন্ত্রপাতি এবং বেসরকারি হাসাপাতাল কর্তৃক নিজস্ব উদ্যোগে আমদানিকৃত সব ধরনের যন্ত্রাংশের ওপর আরোপিত শুল্ককর প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
২০১৯-২০ অর্থবছরে এনবিআর নারী উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে পরিচালিত ব্যবসায়ে শো-রুমের ওপর ভ্যাট অব্যাহতি দিয়েছিল। তবে মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তারা ভ্যাট আদায় করছে বলে অভিযোগ বিডব্লিউসিসিআইয়ের। এটি যথাযথভাবে বাস্তবায়নে এনবিআরের সহযোগিতা চাওয়া হয়।
