কুমিল্লার দাউদকান্দিতে যাত্রীবোঝাই বাসের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে শিশুসহ দুই জনের মৃত্যু ও ২৫ জন আহত হয়েছে। এছাড়া কুমিল্লার দেবীদ্বারে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কায় একজন নিহত, আহত ১৫ এবং চাঁদপুরের কচুয়ায় বাস সিএনজি মুখোমুখি সংর্ঘষে নিহত এক ও দুই জন আহত হয়েছে।
কুমিল্লা প্রতিনিধি ও দাউদকান্দি সংবাদদাতা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ডে গতকাল বৃহস্পতিবার যাত্রীবোঝাই একটি বাসের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে আগুনে পুড়ে এক শিশুসহ দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আরো কমপক্ষে ২৫ জন দগ্ধ হয়। এদের মধ্যে অন্তত পাঁচ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ দুর্ঘটনায় মহাসড়কের দুই দিকে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে চাঁদপুরের মতলব অভিমুখী মতলব এক্সপ্রেস পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস শুক্রবার সন্ধ্যায় গৌরীপুর বাস স্টেশনে পৌঁছুলে হঠাত্ করেই বিকট শব্দে বাসের গ্যাস সিলিন্ডারটি বিস্ফোরিত হয়। এসময় যাত্রীবাহী ঐ বাসটিতে আগুন ধরে যায় এবং দাউ দাউ করে তা জ্বলতে থাকে। পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন এসে বাস থেকে এক শিশু ও বয়স্ক এক জনসহ দুই জনের দগ্ধ লাশ তাত্ক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে।
নিহতরা হলো—দাউদকান্দি উপজেলার বানুয়াকান্দি গ্রামের সাইফুল ইসলামের শিশুপুত্র সাফিন (৫) ও একই উপজেলার তিন পাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৭০)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আকস্মিকভাবে এ ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহত যাত্রীরা প্রাণ বাঁচাতে বাসের জানালা ভেঙে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। আহতদের আর্তনাদে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। এ সময় মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং লোকজন নিয়ে উদ্ধার কাজে সহায়তা করেন।
গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম জানান, গুরুতর আহতদের মধ্যে দগ্ধ ৯ জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে, পাঁচ জনকে গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং অপর আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কুমিল্লা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট তাত্ক্ষণিকভাবে উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। এ পর্যন্ত দুই জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে এবং তাদের পরিচয় জানা গেছে।
এদিকে কুমিল্লার দেবিদ্বারে তিশা পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেলে বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে মাহবুব আলম নামে এক জন যাত্রী নিহত এবং চালকসহ অন্তত ১৬ জন যাত্রী আহত হন। নিহত মাহবুব আলম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার উত্তর বাঙ্গরা গ্রামের বাসিন্দা। কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের দেবীদ্বার উপজেলার বারেরা এলাকায় বৃহস্পতিবার ভোরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মুরাদনগর ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে।
কচুয়া (চাঁদপুর) সংবাদদাতা জানান, কচুয়া-গৌরীপুর আঞ্চলিক সড়কের হাটমুড়া নামক স্থানে বাস ও সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংর্ঘষে এক জন নিহত ও দুই জন গুরুতর আহত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে হাটমুড়া নামকস্থানে ঢাকাগামী আল আরাফাহ এক্সপ্রেস বাসের সঙ্গে গৌরীপুর থেকে কচুয়াগামী সিএনজির এ সংর্ঘষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে উপজেলার বারৈয়ারা গ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে কবির হোসেন (৩০) নিহত হন। গুরুতর আহত সিএনজি চালক মো. হোসেনকে (২৮) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া অপর এক আহত যাত্রীকে পার্শ্ববর্তী দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়। বাসটিকে জব্দ করা হয়েছে।
