করোনা দেশের যথেষ্ট ক্ষতি করেছে

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২১, ২২:৪৮

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশকে যদি আমরা সুস্থভাবে গড়তে চাই, তবে আমার সুস্থ মানুষ দরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পাঁচটি বিভাগের আওতাধীন ২০ জেলার ৭০ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থাপিত ‘কমিউনিটি ভিশন সেন্টার’ -এর কার্যক্রম উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আগারগাঁওস্থ জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে অনুষ্ঠিত মূল অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা ভাইরাস ইতিমধ্যে আমাদের দেশের যথেষ্ট ক্ষতি করেছে, যদিও টিকা দান শুরু হয়েছে। তার পরেও আমি বলব মাস্ক পরে থাকা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং কিছুক্ষণ পর পর ভালো করে হাত পরিষ্কার করার যে স্বাস্থ্যবিধি রয়েছে তা মানতে হবে। তিনি এ সময় টিকা দানের ক্ষেত্রে সকলের নাম রেজিস্ট্রেশন করার ওপর গুরুত্বারোপ করে টিকাদান কেন্দ্রের শৃঙ্খলা বজায় রাখারও আহ্বান জানান। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব শিক্ষা-দীক্ষায় ও স্বাস্থ্যসেবায় এবং মানুষ সুন্দরভাবে বাঁচবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার কমিউনিটি ভিশন সেন্টারের মাধ্যমে সারা দেশের উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিত্সাসেবা পৌঁছে দিবে। পর্যায়ক্রমে সব উপজেলায় এই সেন্টার স্থাপন করবে। তার সরকার আধুনিকায়নের মাধ্যমে চিকিত্সাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে সমর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে আরো ১১০টি ভিশন কমিউনিটি সেন্টার স্থাপনের বিষয়ে চিন্তা করছি এবং সে পদক্ষেপও আমরা নিচ্ছি। এর জন্য মনে হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, কমিউনিটি ভিশন সেন্টারে কর্মরত দুই জন সিনিয়র নার্স উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে বেস হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে রোগীর জাতীয় তথ্য প্রেরণ করেন এবং রোগীর সঙ্গে চক্ষু বিশেষজ্ঞদের ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আধুনিক চক্ষু চিকিত্সাসেবা প্রদান করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে তার সরকার চক্ষু রোগীদের যেমন চোখে ছানি পড়া, গ্লকোমা বা ডায়াবেটিস, রেটিনোপ্যাথি বা শিশুর চোখে আঘাত জনিত চিকিত্সা সরকারিভাবে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যে কমিউনিটি ভিশন সেন্টারের মাধ্যমে প্রায় ৫ কোটি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আধুনিক চক্ষু সেবার আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অন্ধজনে আলো দেওয়ার চেয়ে বড় কাজ হতে পারে না। অন্ধত্ব মানুষের জীবনকে অর্থহীন করে তোলে। এই চিকিত্সার ফলে তারা সুস্থ হবেন। দেখতে পাবেন। জীবন হবে অর্থবহ। মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে আমরা সেবাটা দিচ্ছি।’

বাংলাদেশকে সুস্থভাবে গড়ে তুলতে হলে সুস্থ মানুষ দরকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জন্মান্ধতা দূর করার জন্য প্রসূতি মাকে চিকিত্সা দেওয়া শুরু করেছি। প্রসবের আগে ইনজেকশন দিয়ে দেওয়া হয়। যার কারণে এখন আমরা ভালো রেজাল্ট পাচ্ছি। জন্মান্ধতা কমে গেছে।’ তিনি বলেন, তার সরকার ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে, কৃমির ওষুধ দিচ্ছে, ডিপিটি, বিসিজিসহ বিভিন্ন টিকা দেওয়া হচ্ছে অর্থাত্ সার্বিকভাবে মানুষ যাতে সুস্থ থাকতে পারে সেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। শেখ হাসিনা বলেন, ভারতের অরবিন্দ চক্ষু হাসপাতালের সঙ্গেও চুক্তি হয়েছে এবং তারা সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছে। এজন্য অরবিন্দ চক্ষু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও প্রধানমন্ত্রী ধন্যবাদ জানান।

বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যার কারণে আমি ভিডিও কনফারেন্সে আপনাদের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে কথা বলছি। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উেক্ষপণ করেছি। ব্রডব্যান্ড লাইনসহ নানা সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করছি। মুজিববর্ষে কেউ সেবা বঞ্চিত হবে না। কেউ গৃহহীন থাকবে না। এজন্য সারা দেশে ঘর করে দিচ্ছি। নদী ভাঙাদের ঘর করে দেওয়ার জন্যও আলাদাভাবে বাজেটে ১০০ কোটি টাকা রেখেছি।’

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক সভাপতিত্ব করেন। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো.আব্দুল মান্নান এবং জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. গোলাম মোস্তফা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে কমিউনিটি ভিশন সেন্টারের কার্যক্রম এবং রেফারেল ব্যবস্থার বিষয়ে একটি ভিডিও তথ্যচিত্র পরিবেশিত হয়।

রংপুরের পীরগাছা উপজেলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার কমিউনিটি ভিশন সেন্টারগুলো ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত ছিল। প্রধানমন্ত্রী পরে এসব স্থানের উপকারভোগী জনগণ, জেলা প্রশাসন এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

‘শ্বশুরবাড়ি বলে কথা, একটু

বেশি কথা শুনতেই হয়’

পীরগঞ্জ উপজেলা কমিউনিটি ভিশন সেন্টারের উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে গিয়ে শ্বশুরবাড়ির প্রসঙ্গ টানেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রংপুরের এই পুত্রবধূ বলেন, ‘শ্বশুরবাড়ি বলে কথা। একটু বেশি কথা শুনতেই হয়। করোনার ঝামেলা চলে গেলে আবার (রংপুরে) আসব।’ পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিরোদা রাণী রায় তার প্রান্তে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। সেখানে একজন উপকারভোগীর সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। ঐ উপকারভোগী বলেন, তার বাড়ি পীরগঞ্জ। সেখানে চোখের কোনো সমস্যায় চিকিত্সা নেওয়ার কোনো ব্যবস্থা তাদের জন্য ছিল না। উপজেলা কমিউনিটি ক্লিনিকের ভিশন সেন্টার চালু হওয়ায় তারা সেই সুবিধাটি পাচ্ছেন। এই স্বাস্থ্যসেবার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান তিনি, প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘজীবনও কামনা করেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি খুব খুশি হলাম যে আপনারা উপকার পাচ্ছেন। আর এতেই আমি খুশি, এতেই আমার আনন্দ। সাবাই ভালো থাকেন।’