সুনামির ১০ বছরে নিহতদের শ্রদ্ধা জানাল জাপান

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২১, ২২:৫১

১০ বছর আগে ১১ মার্চ শক্তিশালী এক ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল জাপানের পূর্ব উপকূলে, যাতে তছনছ হয়ে যায় ফুকুশিমার পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র। নয় মাত্রার ঐ ভয়াবহ ভূমিকম্পের জেরে সুনামি তৈরি হয় এবং এতে কার্যত ভেসে যায় হংসু দ্বীপ এবং মারা যায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ। গতকাল নিহতদের শ্রদ্ধা জানিয়েছে জাপান সরকার এবং স্বজনরা। খবর বিবিসি ও ডেইলি মেইলের

বড় ধরনের ঢেউ আঘাত হানে ফুকুশিমা বিদ্যুেকন্দ্রে এবং এর পারমাণবিক চুল্লি প্লাবিত হয়ে পড়ে পানিতে, যা বড় ধরনের বিপর্যয়ের সূত্রপাত ঘটায়। কর্তৃপক্ষ একটি এক্সক্লুসিভ জোন তৈরি করে, যা দিন দিন বড় হতে থাকে, কারণ ঐ কেন্দ্রটি থেকে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হচ্ছিল। ফলে আশপাশের এলাকা থেকে দ্রুত প্রায় দেড় লাখ মানুষকে সরিয়ে নিতে হয়। ঐ ঘটনার এক দশক পরেও ঐ এক্সক্লুসিভ জোনটি যেমন ছিল তেমনই আছে এবং সেখানকার বেশির ভাগ অধিবাসী আর ফিরে আসেনি। কর্তৃপক্ষের ধারণা, সেখানকার কাজ শেষ করতে অন্তত ৪০ বছর সময় লাগবে এবং এর জন্য জাপানের ইতিমধ্যেই ব্যয় হয়েছে কয়েক ট্রিলিয়ন ইয়েন।

শ্রদ্ধা জানাল জাপান

১০ বছর উপলক্ষ্যে জাপান সরকারসহ স্বজনরা নানা কর্মসূচি পালন করেন গতকাল। দেশটির সম্রাট ও সম্রাজ্ঞী গতকাল টোকিওতে নিহতদের স্মরণে নির্মিত এক স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান। স্বজনরা ঘটনাস্থলে   এবং কেউ সমুদ্রেও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। স্থানীয় সময় দুুপুর ২টা ৪৬ মিনিটে এক মিনিটের নীরবতা পালন করা হয় দেশটিতে। এই সময়টাতেই ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল।

দায় ছিল কার

সমালোচকরা টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার বা সরকারের সমালোচনা করে আসছেন, কারণ তারা মনে করেন, সে সময় দুর্ঘটনা মোকাবিলার যথাযথ প্রস্তুতি ছিল না। জাপান পার্লামেন্টের একটি স্বাধীন তদন্ত রিপোর্টে বলা হয় যে এটি মনুষ্যসৃষ্ট দুর্ঘটনা এবং এনার্জি কোম্পানিকে দায়ী করা হয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত না করার জন্য। তবে টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ারের কর্মকর্তারা পরে আদালত থেকে রেহাই পান। ওদিকে ২০১৯ সালে একটি আদালত সরকারকে আংশিক দায়ী বলে আদেশ দিয়ে লোকজনকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়।