বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার একটি ট্রলারের ইঞ্জিন রুমে রহস্যজনক বিস্ফোরণে লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার অগ্নিদগ্ধ ১২ জেলের মধ্যে বুধবার বিকাল পর্যন্ত ছয় জন মারা গেছেন। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তারা মারা যান। মারা যাওয়া জেলেদের বাড়ি উপজেলার চরগাজী ও চররমিজ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে। ঐ ইনস্টিটিউটে চিকিত্সাধীন অন্য পাঁচ জনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, তাদের শরীরের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পুড়ে গেছে। একে একে দগ্ধ জেলেদের মৃত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে কক্সবাজারের অদূরে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় এফবি ওশিন নামের ঐ ট্রলারের ইঞ্জিন রুমে হঠাত্ বিকট শব্দে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে বিস্ফোরণের কারণ জানা যায়নি।
মারা যাওয়া ছয় জেলে হলেন : উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের দক্ষিণ টুমচর গ্রামের নুরউদ্দিনের ছেলে বেলাল হোসেন (২৮), একই গ্রামের সিরাজুল হকের ছেলে মো. মেহেরাজ (২৬), চরলক্ষ্মী গ্রামের আবদুজ্জাহেরের ছেলে মো. মিলন (৩০), একই গ্রামের দেলোয়ারের ছেলে মো. মিরাজ উদ্দিন (২৫), চররমিজ ইউনিয়নের চরগোসাই গ্রামের মন্তাজল হকের ছেলে আবুল কাশেম মিস্ত্রী (৫৫) এবং একই গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে মো. রিপন মাঝি (৩৮)। এদের মধ্যে মো. মিরাজ উদ্দিন বুধবার বিকেলে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। অন্যরা গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন দিনে মারা গেছেন। চরলক্ষ্মী গ্রামের মো. আলাউদ্দিন, মো. সাহাবউদ্দিন, আবু জাহেরসহ পাঁচ জন ঐ ইনস্টিটিউটে বর্তমানে চিকিত্সাধীন আছেন ।
জানা গেছে, কক্সবাজার এলাকার সোহেল কোম্পানির এফবি ওশিন নামের ট্রলারটি ২১ জন জেলে নিয়ে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মাছ ধরার উদ্দেশ্যে বঙ্গোপসাগরে যায়। ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে ট্রলারের ইঞ্জিন রুমে হঠাত্ করে বিকট শব্দে একটি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ট্রলারের ১২ জেলে অগ্নিদগ্ধ হলে অপর ট্রলারের জেলেদের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে চিকিত্সকরা তাদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করেন। সেখানেও অবস্থার অবনতি ঘটলে তাদের মধ্যে ১১ জনকে গত ৪ মার্চ ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। পরে সেখানেই চিকিত্সাধীন অবস্থায় ছয় জন মারা যান।
ট্রলারের মাঝি উপজেলার চরগাজী এলাকার মো. মনির হোসেন জানান, ঘটনার সময় তিনি ট্রলারের কেবিনের ওপরে ছিলেন। এ সময় ইঞ্জিন রুমে আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ইঞ্জিন রুমে ও কেবিনের ভেতরে থাকা ১২ জেলে দগ্ধ হলে মাছধরার অপর একটি ট্রলারে করে দ্রুত তাদের হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে ঠিক কী কারণে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাওহীদুল ইসলাম সুমন জানান, অগ্নিদগ্ধ বেশির ভাগ জেলের বাড়িই তার এলাকায়। আর্থিক সংকটের কারণে ঐসব জেলেদের পরিবার চিকিত্সার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এ অবস্থায় তাদের চিকিত্সায় যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুল মোমিন বলেন, কী কারণে জেলেদের ট্রলারে বিস্ফোরণ হয়েছে তার খোঁজ নেব। আহত ও মারা যাওয়া জেলেদের তালিকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। দুই-এক দিনের মধ্যে তাদের সহায়তা করা হবে।
এদিকে বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে দগ্ধ জেলেদের নিয়ে আসা হলে তাদের চিকিত্সায় এগিয়ে আসে রামগতির স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্বপ্ন নিয়ে’। রোগীদের সেবায় স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের পাশাপাশি চিকিত্সা খরচের অর্থ সংগ্রহের কাজ করছে সংস্থাটি।
