গত বছরের ডিসেম্বরে মুন্সীগঞ্জ থেকে অপহূত শিশু আহাম্মদ উল্লাহকে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে গাজীপুর মহানগরীর ভাওরাইদ এলাকা হতে উদ্ধার করেছে র্যাব। আহাম্মদ উল্লাহ (১২) মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থানার পাথরঘাটা এলাকার মো. মকবুল হোসেনের ছেলে।
র্যাব জানায়, গত বছরের ৬ ডিসেম্বর বিকালে সিরাজদিখানের পাথরঘাটায় শিশু আহাম্মদ উল্লাহ ব্যাডমিন্টন খেলে বাসায় ফেরার পথে নিখোঁজ হয়। পরে তার পরিবার সম্ভাব্য সব স্থানে খুঁজে শিশুটিকে না পেয়ে সিরাজদিখান থানায় মামলা করেন। পরবর্তী সময় অপহরণকারীরা মোবাইল ফোনে ভিকটিমের পরিবারকে অপহরণের বিষয়টি জানায় এবং মুক্তিপণ হিসেবে ১ লাখ টাকা দাবি করে। অন্যথায় ভিকটিমকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে শিশুটির পরিবার মুন্সীগঞ্জের ভাগ্যকুল শ্রীনগর র্যাব-১১, সিপিসি-২-এর কাছে অপহূত আহাম্মদ উল্লাহকে উদ্ধারের জন্য আইনগত সাহায্য কামনা করে। পরে র্যাব-১১-এর একটি আভিযানিক দল অপহরণকারীদের গ্রেফতারে সব ধরনের গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করে। বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে র্যাব-১ গাজীপুর পোড়াবাড়ী ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভাওরাইদ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা ভিকটিমকে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায়। উদ্ধার পাওয়ার পর শিশু আহাম্মদ উল্লাহ র্যাবকে জানায়, সেদিন সে মাঠে খেলছিল। এ সময় তার মামাতো ভাই সেলিম তাকে ডেকে নিয়ে গাড়িতে তুলে অজ্ঞান করে একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে দীর্ঘ আড়াই মাস এক পোশাকে তাকে বন্দি করে রাখা হয়।
আহাম্মদ উল্লাহকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অপহরণকারী চক্রকে গ্রেফতারে র্যাবের অভিযান চলছে।
অপহূত যুবক উদ্ধার, ছয়
অপহরণকারী গ্রেফতার
জীবন মণ্ডল (২০) নামে এক অপহূত যুবককে গত বুধবার গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পিবিআই। সেই সঙ্গে গ্রেফতার করেছে ছয় অপহরণকারীকে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গাজীপুর পিবিআই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। উদ্ধারকৃত জীবন মণ্ডল ঝিনাইদহের শৈলকূপা থানার ভগবাননগর এলাকার ছব্দুল মণ্ডলের ছেলে। গ্রেফতারকৃতরা হলো মহিন, মো. মামুন, আফজাল হোসেন নাঈম, শুভ, মো. রাসেল এবং করিম মিয়া।
পিবিআই জানায়, গত ৯ মার্চ সন্ধ্যায় জীবন মণ্ডলের ব্যবহূত মোবাইল ফোন থেকে তার বাবা ছব্দুল মণ্ডলের মোবাইলে ফোন করে এক জন অজ্ঞাত ব্যক্তি জানায়, তারা জীবন মণ্ডলকে অপহরণ করেছে। সে এক ঘণ্টার মধ্যে ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং তা না দিলে ভিকটিমকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরে তাদের কথামতো ভিকটিমের বাবা বিকাশের মাধ্যমে ভিকটিমের মোবাইলে ৫ হাজার টাকা পাঠায়। পাশাপাশি বিষয়টি তিনি গাজীপুর পিবিআইকে জানান। পরে গাজীপুর পিবিআইয়ের একটি টিম গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার রাতে কাশিমপুরের দক্ষিণ পানিশাইল এলাকার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় জীবন মণ্ডলকে উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে কাশিমপুর থানায় সাত জনের নামে এবং অজ্ঞাত আরো দুই-তিন জন আসামির বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. হাফিজুর রহমান অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার ভোরে উত্তর পানিশাইল এলাকা থেকে মহিনকে ও পরে দক্ষিণ পানিশাইল এলাকা থেকে আফজাল হোসেন নাঈমকে গ্রেফতার করেন। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অন্য আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।
