আনন্দ পট

পৃথিবীর প্রাচীনতম মহাকাব্য গিলগামেশ

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২১, ১৯:১৪

নাজমুল আলম

 

মেসোপটামিয়া সভ্যতাকে বলা হয়ে থাকে মানব সভ্যতার আতুরঘর। খ্রিষ্টপূর্ব ৩৪০০ সালে বর্তমান ইরান, ইরাক, সিরিয়া এবং সৌদি আরব  নিয়ে বিস্তৃত মেসোপটেমিয়ার সুমেরিয়ান সভ্যতায় লিপির আবিষ্কার ঘটে, তাদের এই লিপিকে বলা হয় আর্কাইক কিউনিফর্ম। এই লেখ্য-ভাষাই সভ্যতার প্রমাণ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে যার নিদর্শন গিলগামেশ মহাকাব্য। এই গিলগামেশ মহাকাব্যকে  লিখিত বিশ্বসাহিত্যের প্রথম প্রকৃত মহত্ রচনা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গিলগামেশ মহাকাব্যের প্রধান চরিত্র উরুকের রাজা গিলগামেশ, রোমান উচ্চারণে যাকে বলা হয় বিলগামেশ। মহাকাব্যটি আবর্তিত হয়েছে গিলগামেশ ও তার বন্ধু এনকিদুকে ঘিরে। সুমেরিয়ান শহর উরুকের  মানুষের জীবন যাপন এবং তাঁদের ধর্ম বিশ্বাস, প্রকৃতির সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কের উত্থান-পতনের কথা তুলে ধরা হয়েছে গিলগামেশ মহাকাব্যে। দেবতা, স্বর্গ-মর্ত্য-নরক ও অমরত্বের সন্ধান ইত্যাদিও উঠে এসেছে মহাকাব্যটিতে। সুপ্রাচীন সুমেরিয় পাঁচটি স্বতন্ত্র কাব্যের ভিত্তিতে এ মহাকাব্যটি শুরু হয় যেখানে রাজা গিলগামেশের রাজ্য পরিচালনা এবং তার পরিচিতির সন্ধান পাওয়া যায়। মূল মহাকাব্যটি শুরু হয় পরের পাঁচটি কাব্য দিয়ে।

গিলগামেশ  উরুকের ধর্মযাজক লোগালবান্দা ও দেবী নিনসালের পুত্র।  গিলগামেশ মানুষ হয়েও অমর, অপ্রতিরোধ্য কারণ দেবী নিনসালের দিক থেকেই তার দেহে দেবত্বের ধারাটি এসেছে। গিলগামেশ মহাকাব্যের মহাপ্লাবনের বর্ণনা খ্রিষ্টান ও ইসলাম ধর্মের নবী নূহ-এর সময়কার মহাপ্লাবনের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। আবার গিলগামেশের অতিমানবীয় চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে গ্রিক পুরানের প্রাচীনতম লেখক হোমারের ইলিয়াড ও অডিসি-তে বর্ণিত চারিত্রিক মিলসমূহ দৃশ্যমান। গিলগামেশ তার দেবী মাতার নির্দেশে বন্ধু এনকিদুর সঙ্গে বিভিন্ন অভিযানে যায়, যার  উত্থান-পতনের বর্ণনা  রয়েছে মহাকাব্যটিতে। এনকিদু ও গিলগামেশের মধ্যকার বন্ধুত্ব মনুষ্য সম্পর্কের এক অনন্য নজির। অতিমানবীয় গিলগামেশের বিচিত্র অভিযাত্রী জীবন ও ব্যর্থতা মনুষ্য ক্ষমতার সীমাবদ্ধতাকেই তুলে ধরে।

‘গিলগামেশ’ মহাকাব্যের প্রকৃত লেখকের নাম জানা না গেলেও তা রক্ষিত আছে যুগের পর যুগ। গিলগামেশের মহাকাব্য বহু সাহিত্য, শিল্প এবং সংগীত সৃষ্টিতে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।