বেঁচে থাকতে আমরা শিল্পীর কদর দিতে জানি না :তপন চৌধুরী

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২১, ২০:৪১

বিনোদন রিপোর্ট

 

সম্প্রতি কানাডা থেকে দেশে ফিরেছেন তপন চৌধুরী। না, শিল্পীর এই ফেরাটা অনিয়মিত নয়। বরং বেশিরভাগ সময় দেশেই থাকেন। মাঝে মাঝে পরিবারের কাছে ফেরেন। তপন চৌধুরী বলেন, ‘দেশে গানের টানেই আসি। শিল্পী জীবনে শ্রোতা-দর্শকদের কাছ থেকে যা পেয়েছি, তাই পরম পাওয়া বলে মনে করি। এবারের স্বাধীনতার রজতজয়ন্তীতে দেশের গানে অংশ নেবো বলেই আসা।’ তবে করোনাসহ নানা কারণেই মন খারাপ শিল্পীর। দেশের প্রখ্যাত মিউজিশিয়ান সুব্রত বড়ুয়া রনির অসুস্থতায় বিচলিত তপন চৌধুরী। তপন চৌধুরী বলেন, ‘আজ রনিদার জন্যই আমি তপন চৌধুরী। তিনিই আমাকে ডেকে সোলসে গাওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। এর বাইরে একজন মিউজিশিয়ান হিসেবেও তার অবদান অনস্বীকার্য। আজ তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত। আমি একজন কলিগ হিসেবে সবসময় খোঁজ নিচ্ছি। তার চিকিত্সার জন্য পূর্ণ সহযোগিতা প্রয়োজন। আমি চাইবো রাষ্ট্রীয়ভাবে কিছু একটা করা হোক। আমরা আজ ফ্রন্টলাইনে গান গাই বলেই তারকা, কিন্তু এমন অনেক তারকার পেছনে একেকজন রনির ভূমিকা থাকে। অথচ আজ রনির খোঁজখবরও নেওয়া হচ্ছে না। মারা গেলে সবাই চোখের জল ফেলতে ফেলতে ফেসবুকে লিখবে। স্মৃতিকথায় ভরে উঠবে জানি।’

উল্লেখ্য, তপন চৌধুরী তার ক্যারিয়ারের ৫০ বছরপূর্তি অনুষ্ঠানেও সুব্রত বড়ুয়া রনিকে আলাদাভাবে সম্মান জানিয়েছিলেন।

 এছাড়াও শিল্পী জীবনের আক্ষেপ জানাতে গিয়ে তপন চৌধুরী বলেন, ‘এই যে কিছুদিন আগে জানে আলম ভাই চলে গেলেন। তিনি কত বড় শিল্পী ছিলেন। তার চেয়েও বড় আলোচ্য বিষয় হলো, আলম ভাই অসম্ভব ভালো মনের মানুষ ছিলেন। অথচ জানে আলম বেঁচে থাকতে তো আমরা কেউ তাকে নিয়ে দু-কলম লিখলাম না। তিনি শো অ্যারেঞ্জ করতেন। তিনি যখনই ডেকেছেন আমাকে পেয়েছেন। শিল্পী মানুষ বলে শিল্পীদের মর্যাদা বুঝতেন।’

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে একাধিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতেই দেশে এসেছেন তপন চৌধুরী। শিল্পী বলেন, ‘দেশের এই উত্সবমুখর সময়ে শিল্পী হিসেবে থাকাটা আমার দায়িত্ব।’ নিজের নতুন গান রিলিজ প্রসঙ্গে বলেন, ‘গান তো অনেক করেছি এক জীবনে। এখন তরুণদের কিছু কাজ করতে চাই। এরই ভেতরে বেশ কজন তরুণ মিউজিক ডিরেক্টর কথা বলেছেন। হয়তো তাদের সুরে কিছু গান গাইবো।’