কুলাউড়া ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
জনবল সংকটে ধুঁকছে কুলাউড়া ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ। এতে স্থানীয় গ্রাহকরা পাচ্ছেন না কাঙ্ক্ষিত সেবা। বাংলাদেশ টেলি কমিউিনিকেশন কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) টেলিফোন সংযোগ ব্যবহারকারী স্থানীয় গ্রাহক সঞ্চয়িতা সেন গুপ্তা, আব্দুল মান্নান, দেব দুলাল চৌধুরীসহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, প্রতি মাসে লাইন রেন্ট ও ভ্যাটসহ বিল পরিশোধ করে যাচ্ছি, বিনিময়ে সার্ভিস পাচ্ছি সামান্যই। প্রায়ই টেলিফোন ডেড থাকে। অভিযোগ করেও ফল পাচ্ছি না। তাছাড়া সহসাই কুলাউড়া এক্সচেঞ্জে ইন্টারনেট ব্যবস্থা চালু হবে—এমন কথা দীর্ঘদিন ধরে শোনা গেলেও এখন পর্যন্ত তা পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে এই এক্সচেঞ্জের গ্রাহক সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০০, ২০২১ সালে সেই সংখ্যা নেমে দাঁড়িয়েছে ২১১ জনে। তখন এক্সচেঞ্জে অপারেটর, লাইনম্যান, নাইটগার্ডসহ মোট জনবল ছিল সাত জন। কমতে কমতে বর্তমানে এক্সচেঞ্জের জনবলের সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে এক জনে। সরেজমিনে এক্সচেঞ্জে গিয়ে দেখা যায়, ইন্টারনেট ব্যবস্থা চালুর জন্য কিছু যন্ত্রপাতি বসানো হয়েছে, অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রপাতিগুলো মেঝেতে পরে রয়েছে, চেয়ার-টেবিল ও যন্ত্রপাতির গায়ে পরতে পরতে ধুলার আস্তরণ। মৌলভীবাজার জেলা সদর এক্সচেঞ্জসহ রাজনগর, কুলাউড়া, জুড়ী, বড়লেখা এক্সচেঞ্জের তদারকির দায়িত্বে থাকা জুনিয়র অ্যাসিস্টেন্ট ম্যানেজার মিজানুর রহমান জানান, জেলার সবগুলো এক্সচেঞ্জে চরম লোকবল সংকট রয়েছে। দুই জন লাইনম্যান কমে যাওয়ায় কুলাউড়া এক্সচেঞ্জে জনবল সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ইন্টারন্যাটের যন্ত্রপাতি বসানো হয়েছে তবে কবে নাগাদ চালু হবে তা সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না।
বিটিসিএল, সিলেটের জেনারেল ম্যানেজার মো. গোলাম মোস্তফা জানান, সিলেট বিভাগে সর্বমোট ৪৫টি টেলিফোন এক্সচেঞ্জ ও চারটি গ্রোথ সেন্টার ছিল। গ্রোথ সেন্টারগুলো অনেক দিন যাবত্ বন্ধ। বিভাগের সবগুলোতে জনবল সংকট বিদ্যমান, সর্বমোট ২৯২ জনের স্থলে ২২৬ জন কর্মরত আছে। কবে নাগাদ কুলাউড়া এক্সচেঞ্জটিতে ইন্টারন্যাট ব্যবস্থা চালু হতে পারে, তা জানতে চাইলে এ ব্যাপারে তিনি কিছু বলতে পারেননি। ঢাকার খিলগাঁও কার্যালয়ে কর্মরত বিটিসিএলের চিফ জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুম হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সিলেট বিভাগের সবগুলো এক্সচেঞ্জের অবস্থা অত্যন্ত করুন। এগুলোকে এমওটিএন (মডার্নাইজেশন টেলিকম নেটওয়ার্কের) আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তবে কবে পর্যন্ত একচেঞ্জগুলোর অবস্থার উন্নতি হবে এই মুহূর্তে তা সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। বর্তমানে তার অধীনস্ত উপজেলা পর্যায়ে ৮ হাজরের স্থলে মাত্র ৮০০ জন কর্মকর্তা কর্মচারী রয়েছেন।
