কুমিল্লায় চলন্ত বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে পুলিশ বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় এ মামলা দায়ের করে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে নিহত দুই জনের পরিবারকে ২০ হাজার টাকা করে এবং আহত ৯ জনকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে জেলা প্রশাসন।
শুক্রবার গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম জানান, ‘ফিটনেসের যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে দায়সারা সার্ভিসিং করে যাত্রী পরিবহনের জন্য গাড়িটি সড়কে বের করা হয়। বাসের গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ হয়ে বিস্ফোরণ ঘটে আগুন লেগে হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বাসমালিক ও চালকের অবহেলাজনিত কারণে এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, এমন অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’
এদিকে গতকাল কুমেক হাসপাতালে নিহত দুই জনের ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশ মরদেহ দুটি তাদের স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করে। পরে তাদেরকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। শুক্রবার দুপুরে দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে দুর্ঘটনায় হতাহতদের পরিবারকে বৃহস্পতিবার রাতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে চাঁদপুরের মতলবগামী একটি যাত্রীবোঝাই বাস দাউদকান্দির গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছার পর বাসটির গ্যাস সিলিন্ডার হঠাত্ বিস্ফোরিত হয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে দাউদকান্দি উপজেলার তিনপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৭০) ও বনুয়াকান্দি গ্রামের সাইফুল ইসলামের শিশুপুত্র সাফিনের (৫) মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় দগ্ধ ১৮ জন বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যালের বার্ন ইউনিটে চিকিত্সাধীন রয়েছে।
১৪ জন হাসপাতাল ছেড়েছেন
একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
দাউদকান্দিতে যাত্রীবাহী বাসে সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিত্সাধীন ১৮জনের মধ্যে ১৪ জন হাসপাতাল ছেড়েছেন। তবে ভর্তি একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গোলাম হোসেন নামে ৭৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির শরীরের ৩১ শতাংশ পুড়ে গেছে, শ্বাসনালীতেও ক্ষতি হয়েছে। তাকে আইসিইউতে রেখে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে বলে ইনস্টিটিউটের মেডিকেল অফিসার মো. নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, শামসুন্নাহার (৬৫) ও রওশন আরা (৪৫) নামে আরও দুজন এ হাসপাতালে চিকিত্সা নিচ্ছেন, তাদের শরীরের ১০ থেকে ১২ শতাংশ পুড়ে গেছে। এছাড়া ওমর ফারুক নামে আরেকজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
