শিল্পগুরু সফিউদ্দীন আহমেদ বাংলাদেশের চিত্রকলা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত্ এবং বাংলাদেশের আধুনিক ছাপচিত্রের জনক। তিনি তার জীবনব্যাপী সাধনা দ্বারা আমাদের ছাপচিত্র জগেক বিশ্বমানে উন্নীত করেছেন। উত্কর্ষমণ্ডিত করেছেন ছাপচিত্রের পাশাপাশি রেখাচিত্র ও তৈলচিত্রের ভুবনকেও। বাংলাদেশের শিল্প আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত্ শিল্পগুরু সফিউদ্দীন আহমেদ সংগ্রহশালার উদ্বোধন হলো গতকাল। সংগ্রহশালার পাশাপাশি এতে থাকছে প্রিন্টমেকিং স্টুডিও এবং গ্যালারি।
শিল্পগুরু সফিউদ্দীন আহমেদের সৃজনশীল জীবনের স্মৃতি রক্ষার্থে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে এ সংগ্রহশালা। সফিউদ্দীনের ছোট ছেলে চিত্রশিল্পী নাজির আহমেদের প্রচেষ্টায় ধানমন্ডির চার নম্বর সড়কের ২১/এ বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে শিল্পালয়টি। তিনটি অংশে বিভক্ত করা হয়েছে এই শিল্পায়কে। প্রদর্শনালয় অংশটির নাম রাখা হয়েছে ‘ফাইন আর্ট অ্যান্ড ফ্যাশন গ্যালারি’। শিল্পকর্ম সৃজনে সফিউদ্দীনের ব্যবহূত উপাদানে সজ্জিত অংশটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘শিল্পগুরু সফিউদ্দীন আহমেদ চত্বর’। বিশ দিনব্যাপী সফিউদ্দীন শিল্পালয়ের এই আয়োজন প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শিল্পানুরাগীদের জন্য খোলা থাকবে।
গতকাল শুক্রবার বিকালে এই গ্যালারি, স্টুডিও সংগ্রহশালার নবযাত্রার উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর। সভাপতিত্ব করেন চিত্র-সমালোচক অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সফিউদ্দীনের পুত্রবধূ নাহিদা শারমিন।
আসাদুজ্জামান নূর বলেন, শিল্পিত জীবনের পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও সফিউদ্দীন আহমেদের অবস্থান স্পষ্ট ছিল। আমরা যত আন্দোলন সংগ্রামে ছিলাম, সেসবে তার সমর্থন ছিল।
নিসার হোসেন বলেন, সংগ্রহশালার পাশাপাশি সংরক্ষণাগার থাকা দরকার, যা আমাদের দেশে নেই। এগুলো সংরক্ষণ করতে না পারলে আমাদের মূল?্যবান সব শিল্পকর্ম নষ্ট হয়ে যাবে।
