পড়ন্ত বস্তু

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২১, ২০:২৯

মাধব রায়, কথাসাহিত্যিক

সহকারী অধ্যাপক (পদার্থবিজ্ঞান)

ব্লু বার্ড হাইস্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট

 

 

               

 

 

 

 

 

নীলকান্তবাবু বিন্দুর চুলে একটা চুমু খেয়ে বললেন-মানে হচ্ছে, উপর থেকে পড়তে থাকলে একটি বস্তু প্রথম সেকেন্ডে যদি এক মিটার দূরত্ব অতিক্রম করে, তবে দ্বিতীয় সেকেন্ডে অতিক্রম করবে চার মিটার তৃতীয় সেকেন্ডে নয় মিটার। 

আর চতুর্থ সেকেন্ডে ষোল মিটার, বলল বিন্দু।

ঠিক তাই। গ্যালিলিওর এই আবিষ্কার সমীকরণের মাধ্যমে সংক্ষিপ্তভাবে প্রকাশ করার পদ্ধতিটি আধুনিক বিজ্ঞান গবেষণার প্রধান পথরূপে স্বীকৃত হয়ে আসছে এখনও। সূত্র তিনটি নিয়ে বিজ্ঞানী নিউটনও কাজ করেছেন।

কীভাবে? বলল চন্দ্রা।

নিউটন পরীক্ষাগারে একটি একমিটার লম্বা নলের মধ্য থেকে বাতাস বের করে নিয়ে...

বাতাস কীভাবে বের করলেন? বাবাকে থামিয়ে দিয়ে বিন্দু প্রশ্ন করল।

বাতাস বের করার এক ধরনের যন্ত্র আছে। একে বলে বায়ু নিষ্কাশন যন্ত্র। এই যন্ত্রের সাহায্যে বাতাস বের করে নিলেন এবং এতে পাখির একটি পালক এবং একটি স্বর্ণমুদ্রা ঢুকিয়ে দিলেন।

অণু বলল-বাতাস বের করার পর আবার পালক ঢুকাবেন কীভাবে, বাতাস ঢুকে যাবে না?

হ্যাঁ, ঠিকই বলেছিস, প্রথমে পালক ও স্বর্ণমুদ্রা ঢুকিয়ে নিয়ে এরপর বাতাস বের করে দিলেন। এরপর হঠাত্ করে নলটি উল্টে দিয়ে দেখলেন পালক ও মুদ্রা একসাথে নিচে এসে পড়ে। আবার বাতাস ঢুকিয়ে দিয়ে উল্টে দেখলেন...

স্বর্ণমুদ্রা আগে পড়ে, অণু দ্রুত বলে ফেলল।

হ্যাঁ, এই তো বুঝেছিস।

বিন্দু বলল, আচ্ছা বাবা, চাঁদে তো বাতাস নেই। সেখানে কি হালকা আর ভারি বস্তু এক সাথে পড়বে?

হ্যাঁ,  ১৯৭১ সালে অ্যাপোলো ১৫ অভিযানে গিয়ে ডেভিস স্কট চাঁদের মাটিতে একটা হাতুড়ি আর একটা পালক একসাথে ফেলে দেখলেন দুটো এক সাথেই পড়ে।

তাহলে তো সেখানেও গ্যালিলিওর সূত্র সত্য প্রমাণিত হলো। বলল বিন্দু।

হ্যাঁ, এই তো বুঝেছিস। এখন কি রাগ কমেছে?

বিন্দু বাবার কোলে মুখ লুকাল। এর মধ্যে কমলা উঠে এসেছেন। একটু হাসলেন মুচকে।