আবাদ হচ্ছে ফসলের
চাটমোহর (পাবনা) সংবাদদাতা
চাটমোহরে প্রমত্ত বড়াল এখন অনেকটা মরা খালে পরিণত হয়েছে। দখল ও দূষণে অস্তিত্ব সংকটে এই বড়াল নদ। কোথাও কোথাও কচুরিপানায় ভরে গেছে। বিভিন্ন স্থানে ফেলা হচ্ছে বর্জ্য। এখন বড়ালের বুকে হচ্ছে ফসলের চাষাবাদ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চলনবিলের প্রাণ এবং পদ্মা ও যমুনা নদীর একমাত্র যোগসূত্র বড়াল নদ এখন শুকিয়ে গেছে। হাট-বাজার, পৌরসভার বর্জ্য ফেলা হচ্ছে বড়াল নদে। এ নদীর বুক জুড়ে এখন আবাদ হচ্ছে ধান, গম, সরিষা ও রসুনের। জানা গেছে, এই বড়াল নদীকে রক্ষা করতে ২০০৮ সালে চাটমোহরে গড়ে ওঠে বড়াল রক্ষা আন্দোলন। এই আন্দোলনে সহযোগিতা করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), এএলআরডিসহ বিভিন্ন সংগঠন। পরবর্তীতে বড়াল রক্ষা আন্দোলন কমিটির উদ্যোগে বড়াল পাড়ের ২২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া সভা-সমাবেশ, কর্মশালার মাধ্যমে এলাকাবাসী বড়াল সংস্কারের দাবি জানায়। বড়াল রক্ষায় হাইকোর্টে রিট করে বেলা। শুরু হয় বড়াল অবমুক্ত কার্যক্রম। ইতিমধ্যেই বড়াল নদের চাটমোহর উপজেলার নতুন বাজার হাইস্কুল মোড় বোঁথর ঘাট ও রামনগরে ব্রিজ নির্মাণ হয়েছে। দহপাড়ায় পাউবোর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে। একাধিকবার বড়াল পরিদর্শন করা হয়েছে।
এদিকে বাঁধ ও স্লুইসগেট ভেঙে ব্রিজ নির্মাণ, দখল-দূষণ বন্ধ ও নদী খনন করে বড়াল নদে প্রাণ ফেরানোর দাবিতে আজ রবিবার বড়াল রক্ষা আন্দোলন কমিটি শিশুদের জন্য চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। বড়াল রক্ষা আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব এস এম মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রায় ২২০ কিলোমিটার নদীর মধ্যে প্রায় ১০০ কিলোমিটার শুকিয়ে গেছে। চার জেলার লাখ লাখ মানুষ বড়াল নদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। বড়াল পাড়ের মানুষসহ সবাই অবিলম্বে নদীর পুনর্খনন ও দখল-দূষণ বন্ধের দাবি জানাচ্ছে। নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। বড়াল সচল করা এখন সময়ের দাবি।’ চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সৈকত ইসলাম জানান, বড়াল নদ খননের বিষয় সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। নদীটি সচল হওয়া দরকার।’
পাবনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সহকারী পরিচালক মোশারফ হোসেন বলেন, ‘শুধু বড়াল নদই নয় অন্যান্য নদী রক্ষায় বিভিন্ন স্থানে দখল-দূষণ রোধে জনসচেতনতা বাড়াতে বোর্ড টানানো হয়েছে। এছাড়া নদী রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’
