কটিয়াদীতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সূর্যমুখী আবাদ

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২১, ২১:৫০

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা

চলতি বছর কটিয়াদী উপজেলায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে প্রথম বারের মতো সূর্যমুখী আবাদ হয়েছে। হলুদ রঙের ফুলের মন মাতানো ঘ্রাণ আর মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত হয়ে উঠেছে সূর্যমুখীর মাঠগুলো।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার মৌসুমে কটিয়াদী উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নে ২৭ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে। কৃষি পূনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ২০০ জন কৃষককে ২৭ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করার জন্য সূর্যমুখী বীজ সহায়তায় দেওয়া হয়। বিঘাপ্রতি সূর্যমুখী জমি থেকে প্রায় ৯-১০ মণ বীজ উত্পাদন হয়। সূর্যমুখী বাজার মূল্য মণপ্রতি ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা। এটি চাষ করতে ১০০-১১০ দিন সময় লাগে।

পূর্ব চারিপাড়া গ্রামের মো. মহরম আলী বলেন, আচমিতা ব্লকের উপসহকারীর পরামর্শে প্রথম বারের মতো ৩৫ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি। বীজ বিনা মূল্যে পেয়েছি। চাষাবাদে সব মিলিয়ে ৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বিক্রি হবে ৩০ হাজার টাকা। আর ২৫-৩০ দিন পর ফসল কাটতে পারব। আরেক কৃষক মো. ফরিদ মিয়া বলেন, আমি ১৮ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি। বর্তমানে ফসলের যে অবস্থা প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এ মৌসুমে অন্য ফসলের চেয়ে বেশি লাভবান হব। আগামী বছর দুই-তিন বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করব।

আচমিতা ব্লকের উপসহকারী বরকত উল্লাহ পাঠান বলেন, আমার ব্লকে যে সমস্ত জমিতে রোপা আমন-পরবর্তী পতিত রেখে পাট চাষ করা হতো, সেই পতিত জমিগুলোতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। এতে বাড়তি একটি ফসল পাওয়া যাবে। সূর্যমুখী চাষে আমরা কৃষকদের সঠিক পরামর্শ দিচ্ছি।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. মুকশেদুল হক জানান, এ বছর কটিয়াদী উপজেলায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে প্রথম বারের মতো সূর্যমুখী আবাদ হয়েছে। সরকারের কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় আমরা কৃষকদেরকে বীজ-সহায়তা দিয়েছি। ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। আমরা আশা করি, আগামীতে সূর্যমুখীর আবাদ আরো বৃদ্ধি পাবে।