ফুলবাড়ী বন্যানিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ
আব্দুর রউফ রিপন, রাণীনগর (নওগাঁ) সংবাদদাতা
ছয় বছরেও সংস্কার করা হয়নি ছোট যমুনা নদীর তীরবর্তী ফুলবাড়ী বন্যানিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ। এর ফলে বর্ষা মৌসুম ও নদীতে পানি এলেই দুর্ভোগে পড়েন এলাকাবাসী। জানা গেছে, ২০১৫ সালে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণের ফলে বন্যায় বিধ্বস্ত হয় রাণীনগর উপজেলার ফুলবাড়ী ও পূর্বমিরাপুরের এই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি। ঐ সময় চার কিলোমিটার বাঁধের প্রায় ৫০০ ফুট ভেঙে যায়। বর্তমানে অল্প বৃষ্টিতেই জলবদ্ধতার স্বীকার হচ্ছে শতশত পরিবার। যাতায়াত করতে হচ্ছে নৌকায়। বর্ষায় ফুলবাড়ী, মির্জাপুর, নান্দাইবাড়ী, কৃষ্ণপুরসহ কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ বন্যায় কবলিত হয়। আরো জানা গেছে, রাইপুর, ডাঙ্গাপাড়া, ফুলবাড়ী, উদনপৈয়, মিরাপুরসহ বিভিন্ন এলাকার লোকজনকে সপ্তাহের দুই দিন শনি ও মঙ্গলবার ভবানীপুর-মির্জাপুর হাটে যাওয়ার জন্য এ পথ ব্যবহার করতে হয়। বন্যায় বাঁধ বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকে উত্পাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
নান্দাইবাড়ি গ্রামের শহীদুল ইসলাম জানান, আমরা এ ভাঙন সংস্কারের জন্য জনপ্রতিনিধিদের জানিয়েছি। কিন্তু আজও তা সংস্কার না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমের আগেই সেখানে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অসংখ্য পরিবার। এছাড়া ফসল নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছি।
ফুলবাড়ি গ্রামের রবিন ইসলাম বলেন, ‘আসন্ন বন্যা মৌসুমের আগে বাঁধটি মেরামত না করায় জলাবদ্ধতার কারণে আমাদের মাঠে কোনো ফসল চাষ করতে পারছি না। কৃষিপণ্য থেকে শুরু করে চিকিত্সাসেবা ও জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে দিন দিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গ্রামবাসীকে।’ নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার প্রবীর কুমার পাল বলেন, ‘বাঁধটির ভেঙে যাওয়া অংশ পরিদর্শন করে অনেক আগেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর সংস্কারের আবেদন পাঠিয়েছি। আশা করি কর্তৃপক্ষ দ্রুত বাঁধটি সংস্কার করার বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’
