ইত্তেফাক রিপোর্ট
দেশের পুঁজিবাজার উন্নয়নে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তাতে আগামী দুই বছরের মধ্যে বড় পরিবর্তন দেখা যাবে বলে জানিয়েছেন বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম। তিনি বলেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারে অনেক বড় পরিবর্তন দেখতে পাবেন। তখন আমরা শ্যালো বা অগভীর ক্যাপিটাল মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসতে পারব। অর্থনীতিবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত এক সংলাপে তিনি এ আশাবাদের কথা জানান। ‘ইআরএফ ডায়ালগ অন বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমি’ শীর্ষক ঐ সংলাপে তিনি পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থা, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, তা উত্তরণে বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন। রাজধানীর পল্টন টাওয়ারে ইআরএফ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংলাপে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ সভাপতি শারমিন রিনভী। ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় ইআরএফের সদস্যরা পুঁজিবাজার বিষয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।
আলোচনায় ১৯৯৬ ও ২০১০ সালের পুঁজিবাজার কারসাজির প্রসঙ্গ আসে। বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, এখন অনিয়ম করে বাজার ‘ফেলে দেওয়ার’ সুযোগ নেই। তবে একদিনে সবাই বিক্রি করে দিতে চাইলে আমরা কিছু করতে পারি না। কিন্তু ফেলে দিতে চাইলে অসুবিধায় পড়বেন। ঐ রিপিটেশন আর হবে না। কিছু ছোট সমস্যা হতে পারে। কিন্তু ধরা পড়ে যাবেন। কারসাজিতে জড়িতরা বাজারে ভীতি সৃষ্টির মাধ্যমে যাতে তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে না পারে, সেজন্য গণমাধ্যমের কাছে দায়িত্বশীলতা আশা করে তিনি বলেন, এখানে অনেক দুষ্ট লোক। দুষ্ট কোম্পানিকে নিয়ে কাজ করতে হয়। বাজারের চরিত্র হওয়া উচিত ধীরে ধীরে বাড়বে এবং কমলেও তা ধীরে ধীরে। অথচ হঠাত্ করে বেড়ে যাওয়া আমাদের কাছে ভালো লাগে। এটি অনেকের ‘উদ্দেশ্য’ হতে পারে। তবে তাতে যে ভবিষ্যতে খারাপ নিউজের রসদ দিয়ে দিচ্ছি, তা মাথায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, বাজার খুবই স্পর্শকাতর। ঠোঁট নড়লেই এদিক-ওদিক হয়ে যায়।
মোবাইল ফোন অপারেট রবি’র লভ্যাংশ না দেওয়া ইস্যুতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, রবি যে লভ্যাংশ দেয় না, কথাটি খুব অল্প সময়ের মধ্যে পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। রবি যখন বাজারে আসে, তখন তাদের ইক্যুইটি কম ছিল। দ্বিতীয় প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ভালো। তৃতীয় প্রান্তিকে আরো বেশি ভালো হবে। তিনি বলেন, রবিকে বাজারে আনতে দেরি হলে ১০ টাকায় শেয়ার পেত না। বুক বিল্ডিংয়ে আসত।
পদ্মা ব্যাংক ইস্যুতে তিনি বলেন, মহিউদ্দিন খান আলমগীরের (ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান) চিঠি পেয়েছি। ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইব। পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আমরা মিউচ্যুয়াল ফান্ড নিয়ে কাজ করছি। আশা করছি এখানে বড় ধরনের বিদেশি বিনিয়োগ আসবে। এই প্রান্তিক ও আগামী প্রান্তিকে মিউচ্যুয়াল ফান্ডগুলো ভালো করছে। ফান্ডগুলো লভ্যাংশ দিতে শুরু করেছে। ডিভিডেন্ড পেলে তাদের বিশ্বাস এবং আস্থা আসবে। ফলে এই খাত ঘুরে দাঁড়াবে। তিনি বলেন, আমরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি তখন বাজারের আকার ছিল সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকা। এটি এখন ৫ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি। আশা করছি এটা আরো বাড়বে। তিনি বলেন, সম্প্রতি আমরা খেয়াল করেছি বাংলাদেশ ব্যাংক আমাদের সঙ্গে আলাপ না করেই কিছু কিছু বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। এ বিষয়ে আমরা দেশের সর্বোচ্চ মহলের সঙ্গে কথা বলেছি। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি উচ্চ পর্যায়ের টিম বিএসইসিতে আগামী ১৫ মার্চ (কাল সোমবার) দেখা করতে আসবে। সে বৈঠকে আমরা এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। যাতে কোনো রেগুলেটরি সিদ্ধান্ত কারো অসুবিধার কারণ না হয়ে দাঁড়ায়।
ইনসাইডার ট্রেডিং সম্পর্কে তিনি বলেন, কেউ যদি ইনসাইডার ট্রেডিং করার চেষ্টা করছে সঙ্গে সঙ্গে সফটওয়্যারে ধরা পড়ে যাচ্ছে। তাদের ডেকে সর্তক করা হচ্ছে, বিও অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হচ্ছে, জরিমানাও হচ্ছে। তবে যেহেতু এই বাজার সংবেদনশীল এবং কোনোভাবেই যাতে ভীতি সৃষ্টি না হয়, সেজন্য তথ্যগুলো গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয় না। এছাড়া ভালো কোম্পানিকে বাজারে আনতে উত্সাহিত করতে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির আয়করের ব্যবধান ১৫ শতাংশ করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে এটি সাড়ে সাত শতাংশ। যাতে ১৫ শতাংশ করা হয়, এজন্য অথ্য মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি। এছাড়া ভুয়া অডিট রিপোর্ট বন্ধে ডকুমেন্ট যাচাই করার লক্ষ্যে (ডিভিএস) আইসিএবি’র সঙ্গে সাম্প্রতিক একটি চুক্তির কথাও জানান তিনি।
