শুষ্ক মৌসুমেও জলাবদ্ধতা
সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা
গতকালের আকাশে মেঘের গর্জনে ডিএনডিবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন শাখা প্রশাখা খালগুলোতে পানি উপচে পড়ছে। একটু বৃষ্টি হলেই আবার তলিয়ে যাবে রাস্তা-ঘাট, ঘরবাড়ি। এমনিতে অনেক এলাকায় রাস্তা ও বাড়িতে পানি জমে আছে। দীর্ঘদিন যাবত্ ড্রেনের নোংরা পানির সঙ্গে মানুষ বসবাস করছে। দুর্ভোগে পড়া বাসিন্দারা আশায় বুক বেঁধে আছেন কবে শেষ হবে নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়নের কাজ। ইতিমধ্যে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পানি নিষ্কাশন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ৭০ ভাগ শেষ হয়েছে। জানা গেছে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) বাঁধের নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (দ্বিতীয় ফেজ) কাজ দুই বছর যাবত্ চলছে। প্রকল্পের কাজ চলমান থাকা অবস্থায় বাঁধের নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা এখনো রয়ে গেছে। ডিএনডির অভ্যন্তরে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় আছে সিদ্ধিরগঞ্জের কদমতলী, নয়াপাড়া, গোদনাইল, জালকুড়ি, উত্তর ভুঁইগড়, তুষারধারা, গিরিধারা, রায়ের বাগ, মাতুয়াইল, ডেমরার সারুলিয়া, টেংরাসহ বিভিন্ন এলাকা। এসব এলাকার বাসিন্দারা যাতায়াতসহ বসবাসে নানা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
গতকাল গোদনাইল নয়াপড়া ও দক্ষিণ কদমতলী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এখনো মানুষ ময়লা পানির সঙ্গে যুদ্ধ করছে। নয়াপাড়ার বাসিন্দা জাতীয় সাইবার ড্রিল প্রতিযোগিতায় প্রথম বিজয়ী আরমান হোসেন অন্তু জানান, ময়লা পানি মাড়িয়ে তাকে কলেজে যেতে হচ্ছে। তার বাড়ি ও রাস্তায় ময়লা পানি জমে আছে। ডিএনডি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (দ্বিতীয় ধাপ) প্রকল্পের এক সেনা কর্মকর্তা জানান, প্রকল্পের বেশ কিছু এলাকায় বাঁধ দিয়ে কালভার্ট ও ব্রিজের নির্মাণের কাজ চলছে। বাঁধ থাকায় ঐসব এলাকায় পানি জমে থাকতে পারে। আমরা বাঁধ এলাকায় পাম্প বসিয়ে দিয়েছি, আশা করছি দ্রুত পানি নেমে যাবে। তাছাড়া মধ্য এপ্রিলের পর বৃষ্টির মৌসুমে বাঁধ দিয়ে কোনো উন্নয়ন কাজ হবে না। ঢাকা যান্ত্রিক পাম্প হাউজ (শিমরাইল পাম্প হাউজ) বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রাম প্রসাদ বাছার জানান, বর্তমানে পাম্প হাউজে পানির চাপ নেই, স্বাভাবিক নিয়মে পানি শীতলক্ষ্যা নদীতে গিয়ে পড়ছে।
