আলোচনাসভায় বক্তারা
ইত্তেফাক রিপোর্ট
দেশে অফলাইন ও অনলাইন সোশ্যাল মিডিয়ায় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়েছে। কখনো কখনো নারীর প্রতি সহিংস বক্তব্য, নারীকে হেয় করা বা অবমাননাকর বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে ওয়াজ মাহফিলে। মৌলবাদী একটি অংশ মনে করে যে, নির্দিষ্ট ধরনের নারীরা ধর্ষণকে আমন্ত্রণ জানান বা ধর্ষণ করার উপযুক্ত। গতকাল শনিবার স্থানীয় একটি হোটেলে ‘বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, ভুল বা অসত্য তথ্য প্রতিরোধ এবং তথ্যে প্রবেশাধিকার শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক আলোচনাসভায় বক্তারা এ সব কথা বলেন। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির সহায়তায় বেসরকারি উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ভয়েস’ এই আলোচনাসভার আয়োজন করে।
বক্তাদের অভিযোগ, ওয়াজ-মাহফিলে এক শেণির বক্তা বলে থাকেন, ‘যে সব নারী-পুরুষের প্রতি দাস মনোভাব পোষণ করে না, নারীর আচরণকে উপযুক্ত মনে করে না, তাদের শাস্তিই প্রাপ্য। নারীর প্রতি অবমাননাকর বক্তব্য ইউটিউবে আপলোড করে ভাইরাল করা হয়, সেগুলো অন্যকে উত্সাহ দেয়, যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিল বলেন, দেশের নাগরিকরা তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন নয়। সরকার এবং নাগরিক সমাজ উভয়েই তথ্য সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করতে এবং একটি শক্তিশালী নির্বাচনি এলাকা গড়ে তুলতে কাজ করতে পারে।
সাংবাদিক সেলিম সামাদ বলেন, মতামত প্রকাশ এবং মতামতকে শ্রদ্ধা করার চর্চা অনেক সময় পরিবার থেকেই গড়ে উঠে না। কেননা পরিবারে বাবার মতামতই অনেক সময় সব হয়ে যায়। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইমুম রেজা পিয়াস বলেন, বর্তমানে ইন্টারনেটে বিদ্বেষমূলক আচরণ বিশ্বব্যাপী একটি গভীর আলোচনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংবাদ মাধ্যম ভুল তথ্য পরিবেশন করলে সেই সংবাদ তুলে নিতে পারে, তবে সে জন্য শাস্তির বিধান জরুরি না। আর্টিকেল ১৯-এর মারিয়া সালাম বলেন, দেশের এই অবস্থা এক দিনে হয়নি, আর এর পরিবর্তনও এক দিনে হবে না। অনেক সময় সংবাদমাধ্যমগুলোর অনলাইনে সংবাদ সবার আগে পরিবেশনার অসুস্থ প্রতিযোগিতার কারণেও ভুল বা অসত্য তথ্য দ্রুত প্রচার হয়। এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমগুলোকে আরো সংবেদনশীল আচরণ করার আহ্বান জানান তিনি।
চলচ্চিত্র নির্মাতা গোলাম রাব্বানি বিপ্লব বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ভুল তথ্য এবং ঘৃণাত্মক বক্তব্যের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা দরকার। প্রথমত, ইন্টারনেট ব্যবহারে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। বাকস্বাধীনতা ও ঘৃণাত্মক কথার স্বাধীনতার পার্থক্য জানতে হবে। ঘৃণ্য বক্তব্য, ভুল তথ্য প্রতিরোধে সরকারকে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জনগণের তথ্যে প্রবেশাধিকারের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে যথাযথ কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি । ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং বিদ্বেষমূলক মনোভাব ছড়িয়ে দেওয়ার মধ্যে পার্থক্য আছে। এক্ষেত্রে অনেকই বিষয়টি বুঝতে ভুল করে থাকে। এই অবস্থায় কঠোর নিয়মকানুন থেকে সোশ্যাল মিডিয়া বা ইন্টারনেটের দায়িত্বশীল ব্যবহার বেশি কার্যকর বলে তিনি মনে করেন।
