ইত্তেফাক রিপোর্ট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক শিক্ষক ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের ‘বঙ্গবন্ধু চেয়ার’ অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেছেন, সাম্প্রতিক বাংলাদেশ একটি আলো-আঁধারির মঞ্চ। আলো আছে, তবে অন্ধকার সেটিকে ম্লান করছে। শুরুর বাংলাদেশ ছিল আলোর দিশারি। আর সংবিধানের চার মূলনীতি এখন হারানো দিনের গানের মতো। মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে গতকাল শনিবার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সেমিনার হলে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু ও চার মূলনীতি’ শীর্ষক আলোচনাসভায় তিনি এ কথা বলেন।
অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন সংসদে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ কাটছাঁট সম্পর্কে বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাষণ সম্পাদনার বা মুছে ফেলার অধিকার কারও নেই। বঙ্গবন্ধু ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলেছিলেন। কিন্তু সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম আছে। এটা নিয়ে আওয়ামী লীগ কথা বলে না। এতে তাদের অসুবিধা হয়।
তিনি বলেন, সংসদে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কদিন লাগাতার আলোচনা হলো। যদিও তা বায়বীয়। মুজিববর্ষের বিশেষ অধিবেশনে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের টেপ চালানো হলো। সেখানে সমাজতন্ত্র আর ধর্মনিরপেক্ষতা নেই। স্পিকার এটির দায় এড়িয়েছেন। তিনি বলেছেন, বেতার থেকে যা পাওয়া গেছে তাই শোনানো হয়েছে। এ ঘটনায় সরকারের যে প্রতিক্রিয়া দেখানোর কথা তা দেখায়নি।
আলোচনায় ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। তিনি বলেন, সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম রেখে বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রচিন্তা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। উন্নয়নের পথে আমরা এগিয়েছি, কিন্তু সেই উন্নয়ন সংবিধানের চার মূলনীতির কতটুকু ধারণ করে সেটা বোঝা দরকার। সংসদে প্রচার করা বঙ্গবন্ধুর ভাষণ থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র বাদ দিয়ে প্রচার করা হলো। আমরা প্রশ্ন তুলেছিলাম। উত্তর পেলাম না।
আলোচনাসভায় মূলপত্রে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, সংসদে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র কর্তন করা হলো। এটা বিকৃতি। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ থেকে কাটছাঁট করার অধিকার কারও নেই। আমরা বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ থেকে সরে আসছি কিনা সেই প্রশ্ন উঠেছে। সভার শেষে ‘গণসাংস্কৃতিক মৈত্রী’ আন্তর্জাতিক সংগীত ও গণসংগীত পরিবেশন করে।
