ইত্তেফাক রিপোর্ট
বিএনপির স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতি নিয়ে আলোচনায় মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, মীরজাফর ও খন্দকার মোশতাকের পর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসে তৃতীয় বিশ্বাসঘাতক হিসেবে পরিচিত হয়ে আছেন। বাংলাদেশকে কার্যত পাকিস্তানে পরিণত করেছিলেন জিয়াউর রহমান। বাংলাদেশের রাজনীতিকেও ধ্বংস করেছিলেন তিনি। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশকে তিনি মৌলবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন। গতকাল শনিবার সম্প্রীতি বাংলাদেশ আয়োজিত ‘আবার ইতিহাস বিকৃতির ষড়যন্ত্র’ শীর্ষক সেমিনারে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সংসদ সদস্য মুহম্মদ শফিকুর রহমান। এতে আলোচনা করেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বিমান চন্দ্র বড়ুয়া। সভাপতিত্ব করেন সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়। সঞ্চালনা করেন সম্প্রীতি বাংলাদেশের সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল)। সেমিনারের উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধ লেখেন আলী হাবিব, যা পাঠ করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মাসুম বিল্লাহ।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। বিএনপি-জামায়াত চক্র যারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে চলেছে তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করা এবং জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচারের দাবি জানান তারা। সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বকে বিতর্কিত করতে চায়। এই জন্যই তারা ৭ই মার্চ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠান আয়োজন করছে। শামসুদ্দিন চৌধূরী মানিক বলেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন স্বাধীনতাবিরোধী। বিএনপির মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাবা ছিলেন রাজাকার। জিয়া ছিলেন পাকিস্তানের চর। তিনি কোনো অবস্থাতেই মুক্তিযোদ্ধা ছিলে না। জেনারেল ওসমানী তার কোর্ট মার্শাল করতে চেয়েছিলেন। ডা. কামরুল হাসান খান বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য বর্তমান সরকারকে শুভেচ্ছা জানানোর পরিবর্তে বিএনপি যেভাবে নতুন করে ইতিহাস বিকৃতির রাজনীতি শুরু করেছে, এটা কাম্য নয়।
