খুলনায় প্রথম ধাপে ইউপি চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী
লীগের প্রার্থী হতে চান দেড় শতাধিক
এনামুল হক, খুলনা অফিস
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির অংশ না নেওয়ার ঘোষণায় খুলনায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের তৃণমূল রাজনীতিতে চাঙ্গাভাব দেখা দিয়েছে। দলীয় মনোনয়ন পেতে ইতিমধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। দলীয় ‘মনোনয়ন পেলেই জয়’—এমন মনোভাবে তৃণমূলে কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। খুলনার ৯ উপজেলার মধ্যে প্রথম দফায় পাঁচটি উপজেলার ৩৩টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী দেড় শতাধিকেরও বেশি।
এদিকে, মনোনয়ন প্রত্যাশী অনেকের বিরুদ্ধে রয়েছে হত্যা, মাদক, প্রতারণা, নারী নির্যাতন, ছিনতাই মামলাসহ নানা অভিযোগ। আবার কারো বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার মামলাও রয়েছে। অপরদিকে, খুলনা জেলা পরিষদের কয়েকজন সদস্যও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হতে জোরেশোরে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইছেন। তারা জেলা পরিষদের পদ থেকে পদত্যাগ না করেই দলের কাছে মনোনয়ন চেয়ে আবেদন এবং প্রকাশ্যে গণসংযোগ করছেন নির্বাচনের মাঠে।
আগামী ১১ এপ্রিল সারা দেশের ৩২৩টি ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে প্রথম ধাপে খুলনার পাঁচ উপজেলার ৩৩টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষদিন ১৮ মার্চ, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১৯ মার্চ এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষদিন ২৪ মার্চ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খুলনা জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সাজ্জাদুর রহমান লিংকন পরিষদের সদস্য ফারহানা হালিম, মোল্লা আকরাম হোসেন ও মো. জহুরুল হক বাচ্চু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন চাইছেন। দলের মনোনয়ন চূড়ান্ত না হলেও তারা প্রকাশ্যে গণসংযোগ করছেন নির্বাচনের মাঠে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দিঘলিয়া সদর ইউনিয়নের একজন প্রার্থীর নামে মোটরসাইকেল ছিনতাই মামলা ছাড়াও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক কামরুজ্জামান জামালের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা রয়েছে। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা জ্ঞাপনসহ অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে একাধিবার খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ইউপি সদস্যরা। বারাকপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান হতে চাইছেন মাদক তালিকাভুক্ত ব্যক্তি। আবার, সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের মামলার আসামি পুনরায় প্রার্থী হচ্ছেন সেনহাটী ইউনিয়নে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া গৃহহীনদের ঘর বণ্টনে অনিয়ম ও সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে এমন নেতাও চেয়ারম্যান প্রার্থী হচ্ছেন যোগীপোল ইউনিয়নে।
পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হচ্ছেন বনদস্যু মেঝভাই বাহিনী নিয়ন্ত্রণকারী। এছাড়া লাড়ুলী ইউনিয়নে আলোচিত আলেয়া হত্যা মামলার আসামিও হতে চাইছেন ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী।
দাকোপের কামারখোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী নারী নির্যাতন মামলার আসামিও। কৈলাশগঞ্জে ফের চেয়ারম্যান প্রার্থী চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতন, লুটপাটসহ অন্তত দুই ডজন মামলার আসামি। বাজুয়া ইউনিয়নে চেক ডিজঅনার ও প্রতারণা মামলার এবং সুতারখালী ইউনিয়নে চাঁদাবাজি মামলার আসামিরাও চেয়ারম্যান প্রার্থী। বটিয়াঘাটার বালিয়াডাঙ্গা, আমীরপুর ও গঙ্গারামপুর ইউনিয়নে প্রথমধাপে নির্বাচন হবে; এ তিনটি ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা ব্যতীত অন্য মামলার তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ বলেন, আওয়ামী লীগ অনেক বড় রাজনৈতিক দল। এ দলে অনেক যোগ্য নেতা রয়েছেন। আবার অনেক অযোগ্য ব্যক্তিও আছে। সে জন্য খুলনায় বসে কোনো মনোনয়ন আমরা দেয়নি। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
