সাগরে ট্রলার বিস্ফোরণ

অগ্নিদগ্ধ ১২ জেলের আরো এক জনের মৃত্যু

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২১, ২২:৫৮

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার একটি ট্রলারের ইঞ্জিন রুমে রহস্যজনক বিস্ফোরণের ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার অগ্নিদগ্ধ হওয়া ১২ জেলের মধ্যে আরো এক জেলে মারা গেছেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া জেলের নাম মো. মিরাজ (৪০)। তিনি উপজেলার চরলক্ষ্মী গ্রামের মো. শিরাজের ছেলে। এ নিয়ে গত আট দিনে ঐ ইনস্টিটিউটে চিকিত্সাধীন অবস্থায় সাত জেলের প্রাণ গেল। এর আগে মারা যাওয়া ছয় জেলে হচ্ছেন—উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের দক্ষিণ টুমচর গ্রামের নুরউদ্দিনের ছেলে     বেলাল হোসেন (২৮), একই গ্রামের সিরাজুল হকের ছেলে মো. মেহেরাজ (২৬), চরলক্ষ্মী গ্রামের আবদুজ্জাহেরের ছেলে মো. মিলন (৩০), একই গ্রামের দেলোয়ারের ছেলে মো. মিরাজ উদ্দিন (২৫), চররমিজ ইউনিয়নের চরগোসাই গ্রামের মন্তাজল হকের ছেলে আবুল কাশেম মিস্ত্রী (৫৫) এবং একই গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে মো. রিপন মাঝি (৩৮)।  চরলক্ষ্মী গ্রামের মো. আলাউদ্দিন ও মো. সাহাবউদ্দিন সুস্থ হওয়ায় শনিবার হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আবু জাহের নামের এক জন ঐ ইনস্টিটিউটে চিকিত্সাধীন আছেন। তার অবস্থাও সংকটাপন্ন বলে চিকিত্সকরা জানিয়েছেন। একে একে দগ্ধ জেলেদের মৃত্যুতে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসছে। শনিবার সকালে ঐ ইনস্টিটিউটে দগ্ধ জেলেদের চিকিত্সাসেবায় নিয়োজিত রামগতির স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্বপ্ন নিয়ে’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আশরাফুল আলম হান্নান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে কক্সবাজারের অদূরে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় এফবি ওশিন নামের ঐ ট্রলারের ইঞ্জিন রুমে হঠাত্ করে বিকট শব্দে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ১২ জেলে অগ্নিদগ্ধ হয়। অগ্নিদগ্ধ এসব জেলের বাড়ি উপজেলার চরগাজী ও চররমিজ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে।