মুন্সীগঞ্জের চরাঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ককটেল বিস্ফোরণে ট্রলি চালক জাজাল ব্যাপারী (৪৫) নিহত ও অপর দুই জন আহত হয়েছে। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গ্রেফতার আতঙ্কে গ্রামটি পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। তিন সন্তানের জনক নিহত জালাল গ্রামটির গনি ব্যাপারীর পুত্র।
স্বজন হারানোর কষ্ট কোনোভাবেই যেন সহ্য করতে পারছে না জালাল ব্যাপারীর পরিবার। আহাজারিতে এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে।
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাকান্দির নতুন আমঘাটায় শনিবার দুপুরে শক্তিশালী ককটেল বিস্ফোরণে জালাল বেপারীর মাথা উড়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, আলু মৌসুমে এলাকাটিতে নানা রকম নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ককটেল তৈরি ও অবৈধ অস্ত্রের মজুত করা হয়। মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিক জানান, আলু পরিবহনের ট্রলির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিহত জালালের সঙ্গে চাচাতো ভাই আরেক ট্রলি চালক দেলু ব্যাপারীর বিরোধ হয়।
ওসি জানান, এই এলাকায় ১৯৮২ সাল থেকে প্রভাব বিস্তার নিয়ে নানান রকমের সহিংসতা। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে ককটেল ব্যবহার করে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ককটেল আর অস্ত্রের খোঁজ পায় না। তখন বলে কিছুই নেই। আর সংঘর্ষ লাগলেই ককটেলের শব্দে প্রকম্পিত হয়ে উঠে। তার অংশ হিসাবেই ট্রলি চালকও ককটেল নিয়ে প্রতিপক্ষের মাথায় ছুড়ে মারেন।
এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রুজিনা আক্তার বাদী হয়ে মুন্সীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানান, অনেকেই অবাগ হতে পারেন একজন ট্রলি চালকের কাছে কীভাবে ককটেল এলো। কিন্তু এখানে এটি সাধারণ ঘটনা। প্রায় পাঁচ বছরে আগে ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে দুই পক্ষের সঙ্গে অসংখ্যবার সহিংসতা হয়েছে। দফায় দফায় সংঘর্ষে এখানে বৃষ্টির মতো ককটেল বিস্ফোরণ হয়। উভয় গ্রুপই ককটেল তৈরি করে বিভিন্ন কৌশলে মজুত করে রাখে। আর আলু মৌসুমকে ঘিরে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল সুযোগ নেওয়ারও চেষ্টা করে।
