পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ‘ভারতের সঙ্গে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি ১০ বছর আগেই সই হয়েছে, কিন্তু এর বাস্তবায়ন হয়নি।’ গতকাল শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। এ সময় এক সাংবাদিক বলেন, ‘আমরা তো জানি তিস্তা চুক্তি এখনো হয়নি, তবে এটা চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। আর আপনি বলছেন, ১০ বছর আগেই চুক্তি সই হয়ে গেছে। বিষয়টি পরিষ্কার করবেন কী?’ প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবারও বলেন, “তিস্তা চুক্তি ১০ বছর আগেই পাতায় পাতায় সই হয়েছে। দুই পক্ষই ডকুমেন্টে সই করেছে। ভারত সরকার আমাদের বলেছে, আগে যে চুক্তি হয়েছে, সেটা ‘স্ট্যান্ডবাই’। তারা এটা গ্রহণ করে এবং তার থেকে কোনো ব্যত্যয় হয়নি। কী কারণে যে বাস্তবায়ন হয়নি, আমরা তো সেটা জানি।”
মন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর উত্সবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আসছেন এটাই আনন্দের বিষয়, উত্সবের বিষয়। এছাড়া আরো চার দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানেরা আসছেন। সাধারণত সরকারপ্রধানেরা সফরে এলে আলোচনা হয়। ভারতের সঙ্গে আমাদের প্রতিনিয়ত আলোচনা হচ্ছে। কিছুদিন আগেই তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সফর করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে সচিব পর্যায়ে দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা হচ্ছে। বাণিজ্য, সীমান্ত হত্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের প্রধানমন্ত্রী আলোচনা করবেন। ইতিমধ্যে যেগুলো আলোচনা হয়েছে এবং মোটামুটি একটা ঠিক হয়েছে, ঐগুলো যাতে বলবত্ থাকে, বাস্তবায়নে অসুবিধা না হয়, সেগুলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরতে পারেন।’
ড. এ কে আব্দুল মোমেন জানান, ‘ভারতসহ যেসব দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান আসছেন, সব দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক কিংবা চুক্তি সই হবে। ভারতের সঙ্গেও হবে। এছাড়া বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানেরা ভিডিও বার্তা দেবেন।’ এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, ‘গত শুক্রবার সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি যেসব কথা বলেছেন, সেটা ঠিকভাবে গণমাধ্যমে আসেনি।’
আন্দামান সাগরে ভাসমান রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে না ফেরানোর বিষয়ে অনড় অবস্থানের কথাও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তারা স্বেচ্ছায় এসেছে, স্বেচ্ছায় গেছে। আর আমাদের থেকে ১৭০০ কিলোমিটার দূরে। আমরা কেন তাদের সেখান থেকে নিয়ে আসব? দুনিয়ার সব রোহিঙ্গাকে এনে আশ্রয় দেওয়ার ঠিকাদারি তো পাইনি।’ মন্ত্রী আরো বলেন, ‘জাতিসংঘের আইন হচ্ছে দুর্যোগ থেকে রক্ষা করা, নিকটবর্তী দেশ সেটা করবে। কিন্তু তারা তো মিয়ানমারের নাগরিক। তারা মিয়ানমার থেকে মাত্র ৩২৪ কিলোমিটার দূরে। মিয়ানমারের এক নম্বর দায়িত্ব তাদের ফিরিয়ে নেওয়া।’
