মো. রহমত উল্লাহ
মক্তবে-মাদ্রাসায় যদি ‘আর্বী, ফার্সী, পাঞ্জাবী, পাগড়ী, গেঞ্জী, মুন্সী, মৌলভী, ‘শেরওয়ানী’ কওমী, ইসলামী, কুরবানী, এবতেদায়ী, ফুরকানী, হককানী, তাফসীর’ এ বানানে লেখা শেখানো হয় তাহলে শিক্ষার্থীরা জানবে কীভাবে যে, এগুলো আরবি, ফারসি, পাঞ্জাবি, পাগড়ি, গেঞ্জি, মুন্সি, মৌলভি, শেরওয়ানি, ইসলামি, কুরবানি, এবতেদায়ি, ফুরকানি’ হককানি, তাফসির’ এভাবে ই-কার দিয়ে লেখাই সঠিক?
বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে ‘জরুরী, সার্জারী, প্যাথলজী, অনকোলজী, মেমোগ্রাফী, আলট্রাসনোগ্রাফী’ ইত্যাদি ভুল বানানে লেখা শব্দ দেখে দেখে আমরা এগুলোকেই শুদ্ধ মনে করি। অথচ, এ সকল শব্দের বানান ই-কার দিয়ে ‘জরুরি, সার্জারি, প্যাথলজি, অনকোলজি, মেমোগ্রাফি, আলট্রাসনোগ্রাফি’ এভাবে লেখাই সঠিক। আদালতের লোকেরাই যদি ফৌজদারি, ফরিয়াদি, আসামি, ওয়ারিশ, উজির, নাজির, নালিশ, বন্দি, জারি, ফেরারি, ফাঁসি, ওকালতি, জবানবন্দি ইত্যাদি ই-কারযুক্ত শব্দের বানান ভুল করে ঈ-কার দিয়ে লিখে থাকেন তাহলে অন্যরা তো ভুল করতেই পারেন।
উচ্চ শিক্ষিত চাকরিজীবী নিজেই যখন ‘দাবি, চাকরি, বদলি, কেরানি’ বানান ভুল করে ঈ-কার দিয়ে লিখেন- দাবী, চাকরী, বদলী, কেরানী, তখন আমরা নিশ্চিত হতে পারি না যে, এ সকল শব্দের শুদ্ধ বানান ই-কার দিয়ে লিখতে হয়।
‘জরুরী আমদানী ও রপ্তানী কাজে নিয়োজিত’ লেখা গাড়ি যখন সারাদেশে চলাচল করে, তখন ঈ-কারযুক্ত এই শব্দগুলো সবাই দেখে দেখে এতই অভ্যস্ত হয়ে যায় যে, শুদ্ধভাবে ই-কার দিয়ে ‘জরুরি’ ‘আমদানি’ ‘রপ্তানি’ লিখলেও অনেকেই তা ভুল মনে করেন।
বিভিন্ন দেয়ালে, ব্যানারে, পোস্টারে, টেলিভিশনে, পত্র-পত্রিকায়, সোশ্যাল-মিডিয়ায়, এমনকি কতিপয় অনলাইন অভিধানেও ‘শহীদ দিবস, শহীদ মিনার, ভাষা শহীদ, একুশে ফেব্রুয়ারী, বীর বাঙ্গালী,’ এসব লেখা এত বেশি দেখা যায় যে, এগুলোকে ভুল হিসেবে আমরা চিন্তাও করতে পারি না। অথচ এগুলোর শুদ্ধ রূপ হচ্ছে: শহিদদিবস, শহিদমিনার, ভাষাশহিদ, একুশে ফেব্রুয়ারি, বীর বাঙালি।
প্রচলিত ভুলের এমন অনেক উদাহরণ দেওয়া যাবে। মোটকথা হচ্ছে, আমাদের ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড’ এবং ‘বাংলা একাডেমি’ কর্তৃক পরিমার্জিত ও প্রবর্তিত বানান রীতি অনুসারে সকল বিদেশী শব্দ এবং দেশ, জাতি ও ভাষার নাম ই-কার দিয়ে লিখতে হবে। অর্থাত্ বিদেশী শব্দে, দেশের নামে, জাতির নামে ও ভাষার নামে ঈ-কার লেখা যাবে না। জটিল ব্যাকরণ নয়, এই সাধারণ নিয়ম মনে রাখলেই আমরা ই-কার প্রযোজ্য অনেক শব্দের বানান শুদ্ধ করে লিখতে পারি। পরের অংশ আগামীকাল
