অতিথি পাখির কলতানে মুখর কাট্টলী বিল

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৯, ১০:১৯

অতিথি পাখির কলতানে মুখর রাঙ্গামাটি শহর। শীতপ্রধান দেশগুলো থেকে প্রতিদিন অগণিত অতিথি পাখি আসছে নৈসর্গিক এ পাহাড়ি জনপদে। পাহাড়, বন আর স্বচ্ছ জলাধার অতিথি পাখিকে বেশি আকর্ষণ করে। তাই অতিথি পাখি ভিড় জমাচ্ছে কাপ্তাই হ্রদের আশেপাশে এলাকাগুলোতে।

শীতপ্রধান দেশ থেকে হাজারো মাইল পাড়ি দিয়ে সবুজ পাহাড়ের হাতছানিতে প্রকৃতির ডাকে ছুটে আসে অতিথি পাখি। হ্রদের জলেভাসা চরগুলোতে শত শত অতিথি পাখির কলতানে মনোমুগ্ধকর হয়ে উঠে প্রকৃতি। বিশেষ করে শীত মৌসুমের শুরুতেই পর্যটন শহর রাঙ্গামাটির বিভিন্ন উপজেলাসহ রাঙ্গামাটির ডিসি বাংলো, সুভলং, লংগদু, কাট্টলী, মাইনিমুখ, সাজেক, বাঘাইছড়ি, হরিণা, বিলাইছড়ি, বরকলসহ পাহাড়ের বিভিন্ন বিলে ঝাঁকে ঝাঁকে আসতে থাকে অতিথি পাখির দল। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা এসব পাখির কলরবে কানায় কানায় ভরে যায় নদীর তীর ও জলেভাসা চরগুলো। প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় সাধারণত অতিথি পাখি বেশি দেখা যায়। প্রতি বছরের মতো এ বছরও শীতের শুরুতেই পাহাড়ি অঞ্চলে অতিথি পাখি এসেছে চোখে পড়ার মতো।

বিশেষ করে লংগদুর কাট্টলী বিলে শীতকালে আগমন ঘটে অতিথি পাখিদের আনাগোনা। ঝাঁকে ঝাঁকে এইসব পাখি এসে বসে বিলে। কাট্টলী বিল তাদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে নিরাপদ স্থান হিসেবে অতিথি পাখিরা বেছে নিয়েছে এ বিলটি। পানকৌড়ি আর নানা জাতের পাখির ঝাঁক বিলের চারপাশে ঘুরে বেড়ায়। আর শীতে বেড়াতে যারা আসেন তারা মূলত শীতের পাখি দেখতেই কাট্টলী বিলেই আসেন। ছোট সরালি, টিকি হাঁস, বড় সরালি, মাথা মোটা টিটি, গাঙচিল, গাঙ কবুতর, চ্যাগা, চখাচখিসহ নানান প্রজাতির পাখির ঝাঁকে মুখরিত হয়ে থাকে এই কাট্টলী বিলটি।

তবে প্রতিবছর শীতের পাখি পাহাড়ে আসলেই কিছুসংখ্যক অসাধু ব্যক্তি অতিথি পাখি নিধনের জন্য উঠে পড়ে লাগে। শিকারিদের নির্বিচারে পাখি হত্যার কারণে এখন রাঙ্গামাটির বিভিন্ন এলাকায় কমে আসছে অতিথি পাখিদের আনাগোনা।

আরো পড়ুন: আইন না মেনে কাঁকড়া শিকার, নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক উৎস

বিলের আশপাশের লোকজন ও জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছয় থেকে সাত বছর ধরে এখানে অতিথি পাখিদের আনাগোনা চোখে পড়ার মতো। এলাকার বিভিন্ন ডুবোচরে কিছু অসাধু ব্যক্তি ফাঁদ পেতে এইসব অতিথি পাখি শিকার করে বাজারে বিক্রি করে দেয়।

প্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত অক্টোবরের শেষ ও নভেম্বরের প্রথম দিকেই এরা এদেশে আসে। আবার মার্চের শেষদিকে তারা ফিরে যায়। তবে এভাবে অতিথি পাখি শিকার হতে থাকলে, একদিন অতিথি পাখি আমাদের দেশে আসা বন্ধ হয়ে যাবে। এ বিষয়ে সচেতন হয়ে পাখি শিকার বন্ধের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।

ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ