সিলেট অফিস
সিলেটে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ গত দুই-তিন মাস ধরে কম থাকলেও মার্চের শুরু থেকে আবার বাড়ছে। করোনা আইসোলেশন সেন্টার শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আইসিউতে বেড়েছে রোগীর সংখ্যা। এছাড়া ভিড় বাড়ছে অন্যান্য হাসপাতালেও।
সিলেট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আনিসুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে সিলেটের সর্বত্র মানুষের মধ্যে চরম উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে। যে কারণে ফের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। এটা উদ্বেগজনক। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে বলেন, সংক্রমণ একটু কমেছিল। তাই সবাই স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে শুরু করেন। বিশেষ করে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক জনসমাগম ও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলায় চরম ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সচেতনতা জরুরি। পাশাপাশি এ ব্যাপারে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রবিবার দুপুর পর্যন্ত সিলেট শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারে ৪১ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। যাদের মধ্যে ২০ জন করোনা পজিটিভ। এদের ১১ জনকে হাসপাতালটির নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বাকি ২১ জন রোগী করোনার বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে করোনার হার কমে যাওয়া ও টিকাদান কার্যক্রম শুরু হওয়ায় অনেকেই মনে করছেন করোনা চলে যাচ্ছে। ‘কিন্তু এটা ভুল ধারণা,’ এমন মন্তব্য করে সংশ্লিষ্ট চিকিত্সকরা বলেন, এখনো নিশ্চিন্ত হওয়ার সুযোগ আসেনি। কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।’ তারা বলেন সতর্কতা অবলম্বন না করলে সংক্রমণের হার বহুগুণ বেড়ে যাবে।
সিলেটে শহিদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের ডেপুটি আরএমও ডা. জন্মেজয় দত্ত বলেন, বর্তমানে সিলেটের করোনা আক্রান্ত রোগীর পাশাপাশি করোনার বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। যা সামলাতে বেগ পেতে হচ্ছে। তিনি বলেন, তবে রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করলেও বর্তমানে মৃত্যু হার অনেক কম। গত ১০ দিনে সিলেটে কোনো রোগী করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাননি।
