বাগমারায় যত্রতত্র লাইসেন্সবিহীন ওষুধের দোকান!

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২১, ২১:৩৪

বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা

বাগমারা উপজেলা ও বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলের হাটবাজারে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে লাইসেন্সবিহীন ওষুধের দোকান। এসব ভুয়া ফার্মেসির অধিকাংশেই চলছে ভেজাল-মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধের ছড়াছড়ি। জানা গেছে, ফার্মেসির মালিক ও কর্মচারীরাই ডাক্তার সেজে রোগী দেখেন ও ওষুধ বিক্রি করে থাকেন। এতে সাধারণ রোগীরা প্রতারিত হচ্ছেন। উপজেলার তাহেরপুর, গোয়ালকান্দি, হামিরকুসত্সা, শিকদারী, যোগিপাড়া, ভবানীগঞ্জ, মোহনগঞ্জ, মচমইল, হাটগাঙ্গোপাড়া, বাইগাছা, নরদাশ, সোনাডাঙ্গাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অলিগলিতে রয়েছে অগণিত কথিত ফার্মেসি।

সম্প্রতি ভোক্তা অধিকারের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম হোসাইন ও বাগমারা উপজেলা স্যানেটারি ইন্সপেক্টর আশরাফুল ইসলাম মন্ডল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে উপজেলার দেউলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে জুয়েল ফার্মেসিকে আমদানিনিষিদ্ধ ভারতীয় ওষুধ রাখার দায়ে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করেন। সেই সঙ্গে তারা লিফলেট বিতরণ ও হ্যান্ড মাইকিং করে এলাকার জনগণকে সচেতন করার চেষ্টা করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাহেরপুরের দুই জন ওষুধ ব্যবসায়ী জানান, বাগমারায় ওষুধের ব্যবসায় অরাজগতা চলছে। ব্যবসায়ীদের অনেকের লাইসেন্স মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও তারা নাবায়ন করছেন না। আবার অনেক স্থানে এক জনের লাইসেন্স দিয়ে ভিন্ন স্থানে একাধিক ফার্মেসির দোকানও চালানো হচ্ছে। ভুয়া এসব ফার্মেসিতে চিকিত্সার নামে চালানো হচ্ছে অপচিকিত্সা। এলাকার ভুক্তভোগীদের দাবি, এসব অসাধু ওষুধ বিক্রেতাদের রুখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিয়মিত তদারকি ও অভিযান পরিচালনা করে দৃষ্টান্তমূলক শান্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম রাব্বানী জানান, আমরা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো তদারকি করে থাকি। ফার্মেসির বিষয়টি ওষুধ প্রশাসন ও ড্রাগসমিতির মাধ্যমে তদারকি হয়। ভবানীগঞ্জ বাজার কেমিস্ট অ্যান্ড ডাগিস্ট সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মাফু জানান, আমাদের ভবানীগঞ্জ বাজারে যারা ওষুধ ব্যবসায় জড়িত তারা সবাই যথাযথ লাইসেন্স নিয়ে সরকারি বিভিন্ন বিধিবিধান মেনে ব্যবসা পরিচালনা করছে। তবে বাইরের বিষয়টি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তারা কে কীভাবে ব্যবসা করছে তা আমাদের জানার বাইরে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফ আহম্মেদ জানান, বিষয়টি ওষুধ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ হয়ে থাকে। তারপর আমরা মেয়াদ উত্তীর্ণ আমদানি নিষিদ্ধ ওষুধসহ বিভিন্ন অনিয়ম প্রতিরোধে অভিযান পরিচালনা করে থাকি। বাগমারার এসব বিষয় নিয়ে প্রশাসনের নজরদারী রয়েছে। প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।