লন্ডনে তরুণী নিহত হওয়ার ঘটনায় বিক্ষোভ ব্যাপক সমালোচনা

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২১, ২২:১৫

লন্ডনে সারাহ এভেরার্ড নামের এক তরুণীকে অপহরণ ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে লন্ডনে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বিক্ষোভ দমন করার অভিযোগে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রধানের পদত্যাগের দাবিও উঠেছে। লন্ডনের মেয়রও পুলিশের কাছে বিক্ষোভ দমনের ব্যাখ্যা চেয়েছেন। খবর বিবিসির

শনিবার সন্ধ্যায় সাউথ লন্ডনের ক্লেফাম কমনে সারাহ এভেরার্ডের স্মরণে প্রচুর মানুষ জমায়েত হয়। বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, পুলিশ সেখান থেকে এলোপাতাড়ি গ্রেফতার করছে। অনেক নারীর হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। স্মরণ অনুষ্ঠানে এসেছিলেন ব্রিটেনের প্রিন্স উইলিয়ামের স্ত্রী কেট মিডলটনও। দেড় হাজারের বেশি মানুষ স্মরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ক্লেফাম কমনে সাধারণ মানুষের ভিড় বাড়তে থাকলে পুলিশ সেখান থেকে নারীদের সরিয়ে দেওয়া শুরু করে। লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারি কমিশনার হেলেন বল এ ব্যাপারে বলেন, নিয়ম ভঙ্গ ও স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করার অভিযোগে চার জনকে আটক করা        হয়েছে। অবশ্য আটকের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে লন্ডনের মেয়র সাদিক খান বলেন, পুলিশের প্রতিক্রিয়া যথাযথ ও সময় উপযোগী ছিল না। এ ব্যাপারে লন্ডন পুলিশের জরুরি ব্যাখ্যা চেয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যে মেট্রোপলিট পুলিশের প্রধান ক্রেসিডা ডিকের পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়েছে। বিরোধী দল স্মরণ অনুষ্ঠানে পুলিশের ভূমিকার কঠোর নিন্দা জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত, এক তরুণীকে অপহরণ ও হত্যার দায়ে এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ কনস্টেবল ওয়েইন কুজেনসকে শনিবার আদালতে হাজির করা হয়। তিনি কূটনৈতিক ভবনগুলোর নিরাপত্তার দায়িত্বে পালনে নিয়োজিত ছিলেন। গত ৩ মার্চ দক্ষিণ লন্ডনে নিজের বাড়ি থেকে বন্ধুর বাসায় হেঁটে যাওয়ার সময় সারাহ নিখোঁজ হন। এরপর তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরবর্তীকালে লন্ডনের বাইরে একটি জঙ্গলে তার মরদেহের খোঁজ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে মেট্রোপলিটন পুলিশ। অ্যাসিস্টট্যান্ট কমিশনার নিক ইফগ্রেইভ বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত থাকবে। এক্ষেত্রে তথ্য দিয়ে সহায়তায় উত্সাহিত করা হচ্ছে। ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল বলেন, নারী-শিশুদের রক্ষায় তিনি যথাসম্ভব সবকিছু করবেন। তিনি নারীদের গ্রেফতারের বিষয়ে পুলিশের কাছে রিপোর্ট চেয়েছেন।