শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনা যেন আর না ঘটে :হাইকোর্ট

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২১, ২২:৩৯

হাইকোর্ট বলেছে, চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে নির্যাতনের শিকার শিশু শিক্ষার্থীর লেখাপড়া যেন বন্ধ হয়ে না যায় সেদিকে স্থানীয় প্রশাসনকে লক্ষ রাখতে হবে। ঐ নির্যাতনের ঘটনায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের দেওয়া প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিনের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রবিবার এ মন্তব্য করে।

আদালত বলে, হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী নির্যাতন করা যাবে না। কিন্তু এর পরেও বিভিন্ন মাদ্রাসায় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, এমনকি যৌন নির্যাতনের ঘটনাও ঘটছে। এ ধরনের নির্যাতনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে এবং আদালতের নির্দেশনা যাতে যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয় সে ব্যাপারে সচেষ্ট হতে হবে। চট্টগ্রামের           জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীর গ্রামের বাড়িতে দিবারাত্রি পুলিশ পাহারার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শিশুটি নানার বাড়িতে অবস্থান করছে, সেখানেও পুলিশ প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে ঐ শিক্ষার্থীর পরিবারের ওপর নিরাপত্তার হুমকি নেই। গত মঙ্গলবার বিকালে হাটহাজারী পৌর এলাকার আল মারকাযুল কোরআন ইসলামিক একাডেমির শিক্ষার্থী সন্তানকে দেখতে আসেন তার মা। পরে চলে যাওয়ার সময় শিশুটি মায়ের পেছনে ছুটে যায়। তা দেখে শিক্ষক ইয়াহিয়া তাকে ঘাড় ধরে মাদ্রাসার একটি কক্ষে নিয়ে বেদম মারধর করেন। ঐ মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে গভীর রাতে শিক্ষক ইয়াহিয়াকে আটক করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট এ বিষয়ে প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চান। এর পরই রবিবার চট্টগ্রামের ডিসি ও এসপি হাইকোর্টে প্রতিবেদন পাঠান। ঐ প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

তিনি জানান, নিয়মিত মামলার পর মাদ্রাসাশিক্ষককে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। এছাড়া তাকে মাদ্রাসা থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং নির্যাতিত শিশু শিক্ষার্থীকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে।