ক্ষুব্ধ শিল্পমন্ত্রী বললেন

টাকা ভাগাভাগি করে নিয়ে যান ব্যাংকের পরিচালকরা

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২১, ২২:৪৩

করোনায় ক্ষতির মুখে পড়া ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ব্যাংক থেকে ঠিকমতো প্রণোদনার ঋণ না পাওয়ায় ব্যাংক মালিকদের একহাত নিলেন শিল্পমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। গতকাল রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনে নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, ব্যাংকগুলো শুধু মুনাফাই দেখে। এখানে লুটেরা শ্রেণি তৈরি হয়েছে। এসএমইতে ঋণ দিতে অনেক আনুষ্ঠানিকতা। আর ব্যাংকের পরিচালকরা টাকা ভাগাভাগি করে নিয়ে যান। অবশ্য এই শ্রেণিকে ইঙ্গিত করে শিল্পমন্ত্রী বলেন, চুরির টাকা বিদেশে না নিয়ে দেশে খাটায়। ঠাট্টার ছলে তিনি বলেন, এরা দেশপ্রেমিক চোর। এ সময় পোশাকশিল্প মালিকদেরও সমালোচনা করেন শিল্পমন্ত্রী। তিনি বলেন,  শ্রমিকদের শ্রম চুরি করে তারা বড়লোক হয়েছে। আবার বিদেশে অর্থপাচার করে।

এ সময় শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, এসএমই ও নারী উদ্যোক্তারা ঋণের জন্য লেফট-রাইট করতে হয়। আর যারা ব্রিফকেস নিয়ে যায়, তাদের ঋণ হয়। খোঁজ নিয়ে দেখেন, ব্যাংকের মালিক কারা। ভালো লোক একজনও ব্যাংকে আসেনি। নারী উদ্যোক্তারা যাতে ব্যাংকে ঋণ নিতে গিয়ে লেফট-রাইট না করতে হয়, সে ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি বলেন, প্রণোদনার ঋণ প্রদানে ব্যাংকগুলোর কেন অনিহা, তা খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কামাল আহমেদ মজুমদার তোপ দাগেন সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতিও। সরকারি কর্মকর্তাদের কাজে ডিজিটালাইজেশনের কোনো প্রভাব দেখা যায় না। ফাইল আটকে রাখে, গায়েব করে দেয়। একটা ফাইল দুই-তিন মাসও আটকে রাখে। অথচ এসব ফাইল আধঘণ্টায় ছাড় করা সম্ভব।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে ‘মুজিববর্ষে নারী উদ্যোক্তাদের অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক ঐ সেমিনারের আয়োজন করে এসএমই ফাউন্ডেশন। এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য দেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আলী আজম, এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মফিজুর রহমান, জয়িতা ফাউন্ডেশনের এমডি আফরোজা খান, চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বারের (সিডব্লিউসিসিআই) সভাপতি মানোয়ারা হাকিম আলী প্রমুখ।

এ সময় আলোচনায় অংশ নিয়ে নারী উদ্যোক্তারা প্রণোদনার ঋণ পেতে তাদের হয়রানির কথা তুলে ধরেন। উর্মি নামে এক নারী উদ্যোক্তা বলেন, তার ব্যাংক প্রণোদনার ঋণ অনুমোদন হয়েছে বলে ব্যাংকে চেক পাঠাতে বলে। ব্যাংকে ঋণের টাকা আনতে চেক পাঠানোর পর ব্যাংক ঐ টাকা চেকের মাধ্যমে তুলে আগের ঋণ সমন্বয় করা হয়েছে। অর্থাত্ প্রণোদনার টাকা দিয়ে আগের ঋণের অর্থ ব্যাংকের শাখা নিজেরাই কেটে নিয়েছে। অন্য উদ্যোক্তারাও প্রণোদনার অর্থ না পাওয়ার কথা জানান।

মূল প্রবন্ধে ড. নাজনীন আহমেদ প্রণোদনার প্যাকেজ যথাযথভাবে বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেন। এছাড়া নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন করা, প্রণোদনায় অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতকে যুক্ত করা, এসএমই ফাউন্ডেশন ও অন্যান্য বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) মাধ্যমে বিশেষ ঋণ কর্মসূচি চালুু করার ওপর গুরুত্ব দেন।  এ সময় শিল্পমন্ত্রী নারী উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিসিকে প্লট দেওয়া হবে বলে জানান।