নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় গত ৯ মার্চ রাতে বসুরহাট পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষ চলাকালে আলাউদ্দিনকে হত্যার ঘটনায় গতকাল রবিবার জেলা আমলি আদালতে মামলা করেছেন নিহতের ছোট ভাই এমদাদ হোসেন রাজু। মামলায় বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জাকে প্রধান আসামি, তার ছোট ভাই মো. শাহাদাত হোসেন ও মেয়রপুত্র তাশিক মির্জা কাদেরসহ ১৬৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আদালত আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ওসিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে।
দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস এম মোছলেহ উদ্দিন মিজানের আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। বিকেলে বিচারক বাদীর অভিযোগ আমলে নিয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানায় কোনো মামলা আছে কি না, তা ১৫ দিনের মধ্যে জানানোর জন্য ওসি মীর জাহেদুল হক রনিকে নির্দেশ দেন। মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট হারুনুর রশীদ হাওলাদার। এর আগে দুই দফা কোম্পানীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করতে গেলে ত্রুটি-বিচ্যুতির কথা বলে তা গ্রহণ করা হয়নি।
মামলার প্রতিক্রিয়ায় বসুরহাটের মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বিকেলে ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, ‘ফেনী ও নোয়াখালীর অপরাজনীতির হোতা নিজাম হাজারী ও একরাম চৌধুরী এক হয়েছে। ইতিমধ্যে তরুণ সাংবাদিক মুজাক্কিরকে হত্যা করা হয়েছে, পৌর কার্যালয়ে এসেছিল আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে। আমাকে হত্যা করতে না পেরে নিরীহ সিএনজিচালক আলাউদ্দিনকে হত্যা করা হয়েছে। এখন উলটো ছোট ভাই ও ছেলেসহ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা হত্যা মামলা দায়ের করেছে। আলাউদ্দিনের মৃত্যু যদি পৌরসভা কার্যালয়ে হতো, তবে সেখানে তার রক্তের চিহ্ন পাওয়া যেত। কে বা কারা তাকে মেরে পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে ফেলে দিয়ে আমাদের ওপর দায় চাপাচ্ছে। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট দাবি জানাচ্ছি, বিচার বিভাগীয় তদন্তের পাশাপাশি ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের মাধ্যমে এ ঘটনার তদন্ত করা হোক।’
এদিকে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের টেকেরবাজার নামক স্থানে মেয়র আবদুল কাদের মির্জার গাড়িবহরে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় গতকাল গোলাম ছারওয়ার ফখরুল ইসলাম সবুজকে প্রধান আসামি করে ৪৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৪৫-৫০ জনকে আসামি করে একই আদালতে আরেকটি মামলা হয়েছে।
