শরীরে নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন থাকার পরেও হত্যা মামলার এক আসামির দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করায় চাঁদপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নূরে আলমকে শোকজ করেছে হাইকোর্ট। সংশ্লিষ্ট আসামির চিকিত্সা সেবা ও পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ না দিয়ে কোন এক্তিয়ার বলে ঐ জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। ঐ আসামির জামিন শুনানি শেষে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল রবিবার এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে আসামি ফরহাদের জামিন মঞ্জুরের পাশাপাশি তার বয়স নির্ধারণ করতে নিম্ন আদালতকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
আদালত বলেন, সিআরপিসির ১৬৪ ধারায় আসামির জবানবন্দি রেকর্ডের সময় তার শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন ম্যাজিস্ট্রেট। ২০১৯ সালের ১৯ আগস্ট চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার পিয়ারীখোলা গ্রামে কাঠমিস্ত্রি সোহেল রানাকে (১৭) হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই সাইফুল থানায় মামলা করেন। পরদিন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ফরহাদ হোসেন প্রকাশ (খলু) নামে একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ঐ আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খুন হওয়া সোহেল রানার বিচ্ছিন্ন মস্তক উদ্ধার করা হয়।
ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় ফরহাদ। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নূরে আলম মন্তব্য কলামে লিখেছেন, ‘আসামির দুই হাতের কবজির নিচে দড়ি দিয়ে দীর্ঘক্ষণ বাঁধার চিহ্ন দেখা যায়। এছাড়া পায়ের তালুতে ও পায়ে ফোলা দেখা যায়। আসামির দুই হাত বেঁধে ঝুলিয়ে পেটানোর প্রমাণ তার দুই কবজির নিচের কালসিরা দাগ থেকে প্রমাণ হয়। আসামি রিমান্ডের ভয়ে এই জবানবন্দি করেছে মর্মে প্রতীয়মান হয়।’
এই মামলায় হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন ফরহাদ। জামিন শুনানিকালে তার আইনজীবী রিমি নাহরীন বলেন, গ্রেফতারের পর পুলিশ এই আসামিকে নির্যাতন করেছে। এর পরেও ম্যাজিস্ট্রেট তার জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন। এই জবানবন্দি স্বেচ্ছাপ্রণোদিত নয়।
তিনি বলেন, জবানবন্দিতে আসামির বয়স ১৬ বছর উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশ অভিযোগপত্রে ১৯ বছর দেখিয়েছে। একজন শিশুকে প্রাপ্তবয়স্ক দেখিয়ে চার্জশিট দেওয়ায় আইন লঙ্ঘিত হয়েছে।
শুনানি শেষে হাইকোর্ট ফরহাদের সঠিক বয়স নির্ধারণে নিম্ন আদালতকে নির্দেশ দিয়েছে। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী উপস্থিত ছিলেন। তিনি ইত্তেফাককে বলেন, এই মামলায় ফরহাদসহ তিন আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন থাকার পরেও জবানবন্দি রেকর্ড করায় ম্যাজিস্ট্রেটের ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে।
